রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দাবীর প্রেক্ষিতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে রাকসু নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পূর্বে ইস্পাতের ব্যালট বাক্সে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমান সংবাদিক ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দুপুরে রাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমান বলেন, আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা এখন বাস্তবায়নের পথে আছে। পূর্বে আমরা ইস্পাতের ব্যালট বাক্স বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমরা মিটিং করে এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল যে দাবি জানিয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দাবি ব্যতীত বাকি দাবিগুলো নির্বাচন কমিশন অ্যাড্রেস করবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট কাউন্ট করার দাবি তারা করেছে, সেটা আসলে অনেক দূরহ ব্যাপার, অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তার প্রমাণ আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। আর বাকি যে দাবিগুলো তারা দিয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত আন্তরিকভাবে এই দাবিগুলো অ্যাড্রেস করেছি।
এর আগে ছাত্রদল প্যানেলের নেতৃবৃন্দ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করে ৬ দফা দাবী দেয়। দাবী গুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে। ভুয়া ও জাল ভোট রোধে ছবি-যুক্ত ভোটার তালিকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ডিজিটাল কারচুপি ঠেকাতে ভোট গণনা করতে হবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধু ভোট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত বৈধ কার্ডধারীদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। কেন্দ্রের আশেপাশে জটলা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে কালো টাকার প্রভাব বন্ধ ও আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার দাবিতে এই ৬ দফা উত্থাপন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাবি শাখা। দুপুর ১টায় রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন ছাত্রদলের নেতারা। স্মারকলিপি দেওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, এই দাবিগুলো শুধু আমাদের না, সব প্যানেল ও প্রার্থীদের সাথে আলোচনা করেই দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। ম্যানুয়াল গণনা সময়সাপেক্ষ হলেও জনবল থাকলে তা সম্ভব। আমরা আশা করি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।
অপরদিকে ছাত্র শিবির মনোনিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বুধবার বিকেল ৫টায় নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলামের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের পক্ষ থেকে রাকসু নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের দাবীগুলো হচ্ছে, পোলিং এজেন্টদের প্রবেশাধিকার ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ হতে যাবতীয় সুবিধা নিশ্চত করা। সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আইডি কার্ডের ব্যবস্থা রাখা এবং কেবল প্রশাসন অনুমোদিত সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার প্রদান করা। ত্রুটিমুক্ত ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা এবং বিশেষজ্ঞ টিম রাখা।
কোন প্রার্থী প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে আপত্তি করলে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার ব্যবস্থা রাখা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা। ভোটের দিন ক্যাম্পাসে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা। এবং নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।
এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট প্রার্থী হয়েছেন ৩০৬ জন এবং হল সংসদ নির্বাচনে ৬০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সর্বশেষ সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে।