মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিকের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এ সময়ে কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সহকারী শিক্ষকদের কর্মসূচি পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে ১০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সহানুভূতিশীল বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও বার্ষিক পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সব জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সতর্কতামূলক চিঠির পরও সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়কদের পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চিঠিতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো– বেতন স্কেলে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। সরকার দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে অনীহা জানালেও আপাতত ১১তম গ্রেড দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। শিক্ষকরা অন্তত এ প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান।