মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

৪০ মণ ওজনের সুলতানের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

সাদা ধবধবে গায়ের রং, উচ্চতায় ৬ ফুট আর লম্বায় ১০ ফুট। চার বছর ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খাবার খাইয়ে লালনপালন করা হয়েছে তাকে। শখ করে নাম রাখা হয়েছে ‘পাবনার সাদা সুলতান’। এবারের কোরবানির ঈদে জেলার অন্যতম বড় গরু এটি।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের দিকে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) যান ফারুক। পরে মায়ের ক্যান্সারের খবর শুনে দেশে ফিরে ২০১১ সালের দিকে খামার শুরু করেন। নিজের খামারে জন্ম নেওয়া ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড় গরুটি চার বছর ধরে লালনপালন করে আসছেন তিনি। এ ছাড়া তার একটি মাছের ও একটি মুরগির খামারও রয়েছে।

তিনি বলেন, গরুটিকে খড়, ভুসি, ছোলা, জব, গম, শুকনা খড় ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। কোনো কেমিক্যাল বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।

ফারুক হোসেন বলেন, বিদেশ থেকে ফেরার পর দেশে কোনো কাজ না থাকায় ছোট পরিসরে গরুর খামার গড়ে তুলি। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এখন খামারে প্রায় ২০টি গরু আছে। চার বছর ধরে পালছি, এখন বিক্রি করতে অনেক মায়া হচ্ছে। তারপরও বিক্রি করতে হবে। কেউ ১৫ লাখ টাকায় কিনলে সঙ্গে একটি খাসি ফ্রি দেওয়া হবে।

ফারুকের বড় ভাই উজ্জ্বল সরদার বলেন, আমার ভাই বিদেশ থেকে এসে ছোট্ট একটি খামার গড়ে তোলে। এখন এমন একটি বড় গরু তৈরি হয়েছে যা সবার নজর কাড়ছে। গরুটি এতো বড় হবে চিন্তাও করিনি। ফারুক ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমী। দিনরাত স্বামী-স্ত্রী মিলে খামার পরিচর্যা করে। পরিশ্রম ছাড়া কেউ সফল হতে পারে না।

প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ খান বলেন, গরুটি সাদা রঙের হওয়ায় দেখতে খুব সুন্দর। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক লোকজন আসেন। এতো বড় গরু আমি জীবনেও দেখিনি। আশপাশে এমন গরু কেউ কখনো লালনপালন করেনি। কেউ কোরবানির জন্য কিনলে লাভবান হতে পারবেন।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, জেলায় অনেক খামারি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করেছেন। এবার খামারিরা বেশ লাভবান হবেন। গয়েশপুরের ওই খামারিও গরুটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু ও ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ছাগল রয়েছে। চাহিদার দ্বিগুণ উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।


এই বিভাগের আরো খবর