মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়ক জোরাতালিতেও টিকছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট
আপডেট : সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৪

রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মানের বছর ঘুরতে না ঘুরতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সংস্কারের মাধ্যমে সেই সব গর্ত ভরাট করা হলেও মাস পেরোনোর আগেই আবারো পাথর উঠে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দেবে গেছে। ফলে উচু নিচু ও ভাঙ্গাচোরায় যানবাহন চলতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সড়কটির এমন দুর্দশায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে। রাজশাহী জেলার সঙ্গে নাটোর,পাবনা, কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলার সংযোগের অতি গুরুত্বপুর্ণ সদ্য নির্মিত সড়কটির এমন করুন পরিনতির জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারকে দায়ি করছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনা জেলার ইশ্বরদী পর্যন্ত ৫৪ কিলো মিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে এক বছরও হয়নি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদাররা প্রকল্পটি বুঝিয়ে দেওয়ার বছর না যেতেই সড়কে দেখা দিয়েছে বেহাল দশা। এতে ভোগান্তিতে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর।
চারঘাটের বাসিন্দা আবদুস সালেক বলেন, এটি আঞ্চলিক সড়ক হলেও এ সড়ক দিয়ে দিনরাত দক্ষিণাঞ্চলের পাথর ও খাদ্যপণ্য বোঝাই গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু নতুন সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেবে গেছে। আবার কোথাও ফেটে উঁচু হয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে গাড়িগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না। অপর দিকে সৃষ্ট গর্ত জোরাতালি দিয়ে মেরামত করলেও মাস পেরোনোর আগেই আবারও সৃষ্টি হচ্ছে গর্তের। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) থেকে জানা গেছে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থেকে চারঘাট-বাঘা-নাটোরের লালপুর হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত নির্মা করা হয়েছ ৫৪ কিলোমিটার। ১৮ ফুট থেকে সড়কটি হয়েছে ৩৪ ফুট চওড়া। সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পরে আরও এক বছর সময় বাড়িয়ে কাজ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে।
সড়কের কাজ শেষ করে গত ডিসেম্বরে ঠিকাদাররা হস্তান্তর করলেও চারঘাট ও বাঘা বাজারে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে চারঘাট ও বাঘা বাজারে নির্মান কাজ। পুরো সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে বেহাল দশা।
রাজশাহী শহরের সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগের এ সড়কের দু’পাশে তিন ফুট করে ছয় ফুট ফুটপাত রাখা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। বাজার এলাকায় পানি জমে এমন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ঢালাই সড়ক। ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ হলেও বছর না ঘুরতেই বেহাল হয়ে পড়েছে অনেক জায়গা। এ জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়কটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে দাবি করে সাব্বির হোসেন বলেন, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ঠিকাদারকে পাথর ও বালু সরবরাহ করায় তারা ক্ষমতা দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ করেছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে ব্যায় বহুল সড়কটির এমন করুন কাহিনী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে সড়কে কোনো কোন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যেগুলো পুনরায় সংস্কার করা হচ্ছে। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী ২ বছরের মধ্যে সড়কে সমস্যা দেখা দিলে সংস্কার করতে বাধ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তারই প্রেক্ষিতে গর্ত গুলো পুনরায় সংস্কার করা হচ্ছে। চারঘাট ও বাঘা বাজারের সড়ক নির্মান কাজের ইতিমধ্যে টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চারঘাট ও বাঘা বাজারে কাজ শুরু করা হবে।


এই বিভাগের আরো খবর