বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

ফের পরিবর্তন আসছে পুলিশের পোশাকে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

ফের পরিবর্তন আসছে পুলিশের পোশাকে, ফিরে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী যেকোনো একটি পোশাকে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের একটি প্রত্যাশা আছে, আবেদন আছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আমি আলাপ করে এবং সর্বস্তরের পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে যেটা অনুধাবন করেছি। বর্তমানের যে পোশাক, এই পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং যাতে আমাদের আগে ঐতিহ্য মন্ডিত যে কোন একটি পোশাক বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পায় সেজন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত দেব ইনশাআল্লাহ। শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩ তম বিসিএস শিক্ষানবির সহকারী পুলিশ সুপার ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে পুলিশ কোন বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠি বাহিনী নয় বরং পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। আমাদের নির্বাচন ইশতেহারে আমরা ঘোষণা করেছি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাব মুক্ত করে একটি আধুনিক সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থা রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর মনোভাব প্রতিষ্ঠা সহ একটি দক্ষ ও আধুনিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ইতমধ্যে জনবল বৃদ্ধি সহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিএনপি নির্বাচনের ইশতেহারে রাষ্ট্র কাঠামো গণতান্ত্রিক সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে তার অন্যতম স্তম্ভ হল পুলিশ সংস্কার। আমরা দায়িত্বে আসার পর থেকেই একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়ে কাজ করছি। এই কমিশনের উদ্দেশ্য হলো পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা। নিয়োগ বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা উদ্দেশ্যতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ব্রিটিশ আমলের সেখানে পুলিশ আইন পরিবর্তন করে। সময় উপযোগী এবং জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা।

আমরা চাই এমন এক পুলিশ বাহিনী যারা ক্ষমতার বর্ডবাদ করবে না বরং অপরাধীর মনে ভয় আর নিরপরাধীর মনে প্রশান্তি যোগাবে।
কুচ কাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, রাজশাহী চারঘাট বাঘা আসনের এমপি আবু সাঈদ চাঁদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর অধ্যক্ষ অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এবারের ৭২ শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপার এই প্রশিক্ষণ সমাপনীতে অংশ নেন। এদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ আর ৬ নারী।। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার আহমেদ সাদমান সাকিব। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার এবং বেস্ট একাডেমিক এই দুটো ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ফাহিম ফয়সাল। এছাড়াও বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আরাফাত হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার শাওন রেজা এবং বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার বাপী কুমার দাশ।


২০২৫ সালের ০১ মার্চ শুরু হওয়া ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।


এই বিভাগের আরো খবর