রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৫

কলেজ ছাত্রীর অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে বাগমারার যুবলীগ কর্মী হিটলার মাহমুদের দিনের পর দিন ধর্ষনের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিউ ডিগ্রী কলেজের এক ভুক্তভোগী ছাত্রী। বুধবার বেলা ১২টায় নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ঐ ছাত্রী জানায়, আমি রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ফিলোসোফি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আমি ২০২০ সালের মে মাসে একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি ছেলেটি একজন প্রতারক ও নারীলোভী। সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক মেলামেশা করে। তখন কিছু আপত্তিকর ভিডিও করে রাখে এবং এগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। এ জন্য আমি মামলা করেছি। এর সুবিচার পেতে এবং ছেলেটি যেন আর কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করতে না পারে তার জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। অভিযুক্ত যুবকের নাম হিটলার মাহামুদ। তার বাবার নাম আমজাদ হোসেন। বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামে তার বাড়ি। ২০২০ সালের মে মাসে সে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাগমারার ভবানীগঞ্জ তক্তপাড়ায় তার এক বোনের বাসায় নিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক মেলামেশা করত। কিন্তু বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে নানা তালবাহানা করত। এভাবে সাড়ে ৪ বছর পার হয়ে যায়। একপর্যায়ে আমি তার প্রতারণা বুঝতে পেরে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু হিটলার ফোন করতেই থাকে। সে আমার কাছে একটিবারের জন্য সুযোগ চায়। বিয়ে করার জন্য একবছর সময় চায় সে।  আমি তাকে একটা সুযোগ দিই, কিন্তু শর্ত দিলাম যে বিয়ের রেজিস্ট্রিটা অন্তত করে নিতে হবে। সে এতে রাজি হলো।
এরপর সে আমাকে রাজশাহী শহরের ঝাউতলার মোড় সংলগ্ন একটি বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু সে বিয়ের রেজিস্ট্রি করেনি। পরে আরও কয়েকদিন আমাকে ভবানীগঞ্জে তার বোনের বাড়ি এবং ঝাউতলার ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপর তার চালাকি বুঝে যখন আমি আর মিশতে চাইলাম না, তখন সে আমাকে গোপনে ধারণ করা কিছু ছবি এবং ভিডিও পাঠায় এবং বলে তার সঙ্গে মেলামেশা অব্যাহত না রাখলে এসব সে ছড়িয়ে দেবে। আমি এসব আর সহ্য করতে পারছিলাম না। গত ১৯ আগস্ট আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় যাই। সেখানে থানার গেটে তার বন্ধু কবির আমাকে দেখে এবং মামলা না করার জন্য বোঝাতে থাকে। কবির হিটলারকেও ফোন করে। হিটলার বিয়ে করতে রাজি হয়।
তারপর আমি বাসায় এসে আইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধন কার্ড নিয়ে কবিরের সঙ্গে বের হই। আমরা মোহনপুর এসে দাঁড়াই। কিন্তু তখন মোহনপুরে এসে হিটলার আবার বিয়ে না করার পরিকল্পনা করে। সে কান্না করে পায়ে পড়ে বলছিল, রাজনৈতিক কারণে তার নামে একটি আজ মামলা হয়েছে। সে এখন বিয়ে করতে পারবে না। সে আরও একমাস সময় চাইল।আমি বললাম, বিয়ে না করলে আমি বিষ খাব অথবা থানায় গিয়ে মামলা করব। তারপর সে আমাকে মোহনপুরে বাইকে তুলে নেয়। সে আমাকে ঝাউতলা মোড়ের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে সে আমার সঙ্গে রাতে থাকে এবং শারীরিক মেলামেশা করে। বলে, পরদিন বিয়ে করবে। কিন্তু পরদিন বিয়ে না করে সে আমাকে আবারও বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
আমি তার প্রতারণা আর মানতেই পারছিলাম না। এরপর থানায় যাই মামলা করতে। বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম আসামির নাম শুনেই মামলা নেননি। তিনি সারাদিন আমাকে থানায় বসিয়ে রাখেন এবং আমার সব এভিডেভন্স দেখেন। তারপরও মামলা না নিয়ে বলেন, সব শেষ ধর্ষণের ঘটনা মোহনপুর এবং রাজপাড়া থানা এলাকায়। সেখানে মামলা করতে হবে। তারপর ওসি আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরপর গত ২০ নভেম্বর আমি আবার থানায় যাই। তখন ওসি শুধু একটা অভিযোগ নিয়ে রাখেন। কিন্তু মামলা রেকর্ড করেন না। ফোন করলে বলেন, তিনি মামলা রেকর্ড করতে পারবেন না। তিনি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বলেন, আমার থানায় আমিই রাজা। আমার থানায় কোনো এমপি-মন্ত্রী কারও কথা আমি শুনব না। তোমার কেস আমার থানায় আমি রেকর্ড করব না। আরও অনেক বাজে কথা বলেন ওসি। তিনি নাকি ছাত্রদল নেতা ছিলেন। সেই ক্ষমতাও দেখালেন।
বাধ্য হয়ে আমি গত ২৮ নভেম্বর কোর্টে মামলা করতে যাই। কোর্টে মামলা রেকর্ড হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি কী তা আমি বুঝতে পারছি না। উল্লেখ্য, হিটলার যুবলীগের কর্মী। তার বাবা আমজাদ হোসেন মেম্বার গণিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। আওয়ামী লীগ আমলে সে আমলে সে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় দাপট দেখাতো। কিন্তু তার মামা সাখাওয়াত হোসেন বল্টু বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও মনোনয়ন প্রত্যাশী, তার খালু বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা এনামুল হক বাসুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। এখন সে তাদের পরিচয়ে বিএনপির দাপট দেখাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি সুষ্ঠু বিচার পাব কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছি।
আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, হিটলার মাহমুদ একজন নারীলোভী ছেলে। সেটা আমি অনেক পরে বুঝেছি। যখন বুঝেছি, তখন কিছু ভিডিও এবং ছবির কারণে আমি তার কাছে জিম্মি। আমি বাধ্য হয়ে দিনের পর দিন তার সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমি পরবর্তীতে জেনেছি, সে আগে তিনটি বিয়ে করেছে। তার প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল রিতা। ১২ বছর সংসার করেছিল তার সঙ্গে। একটা বাচ্চাও হয়েছিল। কিছুদিন পর বাচ্চা মারা যায়। রিতা থাকতেই রাজিয়া সুলতানা ইভা নামের এক মেয়ের সাথে সে ৪ বছর প্রেম করে। জোর করে ইভা হিটলারকে বিয়েও করে। কয়েকবছর পর তাদের তালাক হয়ে যায়।
এখনো ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখে হিটলার। মিতু নামের আরেক মেয়ের সাথেও সম্পর্ক ছিল হিটলারের। আরও একাধিক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে। হিটলার মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে টাকা-পয়সাও হাতিয়ে নেয়। আমি চাই, আর কোন মেয়ে যেন হিটলারের ফাঁদে না পড়েন। পাশাপাশি আমার সঙ্গে সে যে অন্যায় করেছে, তার বিচার চাই। আপনারা এই নারীলোভী ব্যক্তির চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরবেন বলে আমি আশা করছি। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে পাব বলেও প্রত্যাশা রাখছি।


এই বিভাগের আরো খবর