রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, এ বছর জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ৩৫১ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ১৩ জনকে কেটেছিল রাসেলস ভাইপার সাপ। ৮১ জনকে বিষধর সাপ ও ২৭০ জন রোগীকে নির্বিষ সাপে কেটেছিল। বাকি ৬৮ জন রোগীকে অন্যান্য বিষধর সাপে কেটেছিল।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইমন নামের এক তরুণ সাপে কামড় দেয়। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইমনের মামা মো. তুহিন বলেন, তাদের বাড়ি নদীর পাশে। রাতে ইমন পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় তাকে সাপ কামড় দেয়। ওই রাতে ইমনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবু মন না মানায় ইমনের ফুফা তাকে ওঝার কাছেও নিয়ে যায়। পরের দিন তার স্বজনরা ইমনকে নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করান। ইমনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তার অবস্থার উন্নতি হলে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেয় চিকিৎসক।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, গত ১৪ বছরে হাসপাতালে এত সাপে কাটা রোগী আসেনি। তবে যেসব রোগীর মৃত্যু হয়েছে তারা অনেক দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছেছিল। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার কারণে তাদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সচেতনতা নিঃসন্দেহে বেড়েছে। তবু একটি সাপে কামড়ানো রোগীও মারা যাবে না, এটা সবার মতো আমারও কামনা।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর জন্য বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। প্রতিটি রোগীর জন্য কর্তৃপক্ষ খরচ করেছে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা। কিছু রোগীর জন্য আরও বেশি। সবমিলে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে- আক্রান্তকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আনতে হবে। -ঢাকা পোস্ট পোর্টাল