হাফিজ বলেন, যারা বলছে যে, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। আমরা তাদেরকে বলতে চাই, বিএনপি কোনো দুর্বল দল নয়। কারা নির্বাচন হতে দেবে না, আমরা রাজপথে দেখতে চাই। সতেরো বছরের আত্মত্যাগ তো ব্যর্থ হতে পারে না। আজকে আমরা বাংলাদেশের সবাইকে—সরকার, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আওয়ামী লীগের সবাইকে এই বার্তা দিতে চাই, জিয়াউর রহমান আজ নেই, কিন্তু তার দল বিএনপি এখনো বেঁচে আছে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে পারে না, এদেশের জনগণের এটা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যারা পিআর নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাদেরকে বলব, আপনারা জনগণের কাছে যান। আপনাদের ম্যানিফেস্টোতে বলেন, ইশতেহারে বলেন, যে আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন চাই এই দেশে… জনগণ যদি আপনাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়, তাহলে আপনারা এই ব্যবস্থা চালু করেন। আমরা মাথা পেতে নেব। কিন্তু এইভাবে জনগণের ওপরে দুই-তিনটি রাজনৈতিক দল, ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আগত বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে এই ধরনের সিস্টেম করতে যাওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। আমরা দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি, আমরা কখনোই এটিকে সহ্য করব না। এইভাবে জনগণের ওপর অত্যাচার করে, নিজেদের স্বার্থে, নিজস্ব দলীয় স্বার্থে অদ্ভুত নির্বাচনী ব্যবস্থা—যার সঙ্গে আমাদের দেশের জনগণ পরিচিত নয়—এই ব্যবস্থা আমরা চালু হতে দিতে পারি না।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এর চাইতেও বেশি প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে বেড়াতে গিয়েছেন, কখনো দিনের পর দিন বাংলাদেশ বিমানের এয়ারক্রাফট… কখনো ফিনল্যান্ডে, কখনো ইংল্যান্ডে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রে বসে আছে। মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ, সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ—তারা এত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, তারাও নরমাল এয়ারলাইন্সে ট্র্যাভেল করেন। কিন্তু এইভাবে দরিদ্র একটা দেশে মানুষ বিমান নিয়ে ওখানে বসিয়ে রাখে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনেক টাকা ফি দিতে হয় বিভিন্ন এয়ারপোর্টে। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত উদারচেতা, সরকার কী করে এটা জানতেও পারে না।