জানা গেছে, নওহাটা পৌরসভায় কোনো ভাগাড় নেই। পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বারনই নদীতে। একই নদীতে বাগমারা ও তাহেরপুর পৌরসভা থেকেও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। দুর্গাপুর পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় হোজা নদীতে। গোদাগাড়ী পৌরসভা ফেলে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে। কাটাখালী পৌরসভার কঠিন বর্জ্য ফেলা হয় সিটি হাটের ভাগাড়ে। তবে বেশিরভাগ ময়লা ফেলা হয় কাটাখালী বাজার এলাকার ড্রেনে, ফলে বৃষ্টির সময় ড্রেন ভরে গিয়ে পানি জমে থাকে। বাঘা পৌরসভায় নির্ধারিত জায়গা থাকলেও বর্জ্য ফেলা হয় শাহী মসজিদের পুকুরে।
স্কুল শিক্ষিকা সাকিলা খাতুন বলেন, বারনই নদী নওহাটা থেকে বাগমারা ও তাহেরপুর হয়ে গেছে। নওহাটা পৌরসভার বর্জ্য নদীতে ফেলা হলে তা ভেসে গিয়ে অন্য এলাকাগুলোতেও পৌঁছায়। এসব বর্জ্য পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়, জীবাণু ছড়ায়। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, চর্মরোগ ও ডায়েরিয়া হতে পারে। এছাড়া বর্জ্য থেকে সৃষ্ট বায়ু দূষণে হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন বলেন, বিভিন্ন ধরনের দূষণ তৈরি হচ্ছে, যা থেকে রোগ ছড়াচ্ছে। পরিবেশগত সমস্যাগুলো আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কাটাখালী, তাহেরপুর, বাঘা ও গোদাগাড়ী পৌরসভায় প্রায় ৬ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প চলছে। কিন্তু জমি না পাওয়া, প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রকল্পগুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ডাস্টবিন, ভ্যান, ভ্যাকুটাগসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহারের সুযোগ না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার পথে।
কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক জাহিদ হাসান বলেন, মানবসৃষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা পাইনি। উপযুক্ত জায়গা খোঁজা হচ্ছে।রাজশাহী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, পচনশীল বর্জ্য থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, যা নানা রোগের কারণ হতে পারে। ভবিষ্যতে এটি আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। – ঢাকা পোস্ট