তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
এয়ারক্রাফটটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবল রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারাকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল না। ১৫ দিনের মধ্যে একই ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
বিমানের সিস্টেম সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে তদন্ত শুরুর সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য সময়মতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় আবারও ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে মোট প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির মতে, এটি কেবল একটি যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ব্যর্থতার প্রতিফলন।
দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিটির মতে, ত্রুটি সংশোধন ও বিমানকে পুনরায় পরিষেবায় ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করেননি।
বিশেষ করে কম ফুয়েল প্রেসারে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বিমানটিকে ফ্লাইটের জন্য ছাড়পত্র দেওয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।