দুই সপ্তাহ আগে রাজশাহীতে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের কারণে প্রতিদিনই পোলট্রি খামারের অনেক মুরগি মারা গিয়েছিল। সেইসঙ্গে মুরগির ওজন ও ডিমের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে লোডশেডিং কম ও বৃষ্টিতে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে পোলট্রি খামারে। এতে করে বর্তমানে হিটস্টোকে মারা যাচ্ছে কম। উৎপাদন বাড়ায় দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। তবে বেড়েছে ডিমের দাম।
নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকার খামারি আরিফুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার খামার থেকে পাইকারিতে ১৫০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার বিক্রি করেছি। সোনালি ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি করেছি। আর সাদা ডিম আট টাকা ও লাল ডিম ৯ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু খুচরা বাজারে দামে এত পার্থক্য কেন, তা আমারও প্রশ্ন। ১৫০ টাকার মুরগি তো ১৯০-২০০ টাকা হতে পারে না। এটা ভয়াবহ অবস্থা। কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি থাকতে পারে। কেজিতে ব্যবসায়ীদের ৪০-৫০ টাকা লাভ করা উচিত নয়।’
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর সোনালি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সাদা ডিম ১০ টাকা ও লাল ডিম ১১ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই সপ্তাহ আগে ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
রাজশাহী পোলট্রি খামার ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, ‘আগের চেয়ে মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। কারণ উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে ডিমের উৎপাদন কমায় দাম কিছুটা বেড়েছে।’
রাজশাহী পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ‘লোডশেডিং ও গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে গিয়েছিল। সেটার রেশ এখনও রয়ে গেছে। সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ের পোলট্রি খামারিদের বাঁচানোর জন্য নজর দিতে হবে। পোলট্রি নীতিমালা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন নাই। এতে করে ক্ষুদ্র পোলট্রি শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। তা না হলে খামারিদের টিকে থাকা সম্ভব হবে না।’