২০১৯ সালে আজকের দিনেই সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে দেয় ভারত। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় পাকিস্তান দিনটিকে ‘ইয়েম-ই-ইস্তেহসাল’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার তা নিয়ে বিবৃতিও দেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক। ওই বিবৃতির পর এ বার পাল্টা বিবৃতি দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও। স্পষ্ট করে দেওয়া হল, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কিছু নেই। বরং পাকিস্তান যাতে নিজের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নজর দেয়, সেই ‘পরামর্শও’ দেওয়া হয়েছে।
ইশাকের মন্তব্যকে দ্বর্থ্যহীন ভাবে খারিজ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করার উদ্দেশেই এই কূটনৈতিক অপচেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ সবসময় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, তা-ও স্পষ্ট করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকারই পাকিস্তানের নেই।
ইসলামাবাদকে এক হাত নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, নিজেদের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগগুলিকে আড়াল করতেই এ সব অপপ্রচার চালানোর মরিয়া চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। এ প্রসঙ্গে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমনপীড়নের কথাও উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনকে স্তিমিত করতে যে ভাবে একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে, তা-ও বিবৃতিতে তুলে ধরেছে বিদেশ মন্ত্রক। ইসলামাবাদ আসলে ‘ভন্ডামি’ করছে বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি। তবে এ সব সাজানো নাটকে যে আর আন্তর্জাতিক মহলকে ভুলিয়ে রাখা যাবে না, তা-ও পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত।