বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

জিডি করেও বাঁচতে পারেনি ছাত্রদল নেতা, প্রত্যাহার থানার ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিআইজির কার্যালয়ে যোগদানের জন্য আদেশ জারির দিনই তাকে গুরুদাসপুর থানা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ঢাকার পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। একই দিন মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাকিল হত্যাকাণ্ডে মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন সন্দেহ থেকে জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, ১৪ অক্টোবর তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রথমে মামলার এজাহারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের ছেলে মিন্টুকে গ্রেফতার করা হলেও অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে জিডি করেছিলেন শাকিল

গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক আইডিতে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দেন শাকিল। সেখানে তিনি লেখেন, আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয়ে আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা ডাইরি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এই ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন।

শাকিলের ওই পোস্টের বিষয়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।

শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, হুমকি পাওয়ার পর তার ছেলে থানায় জিডি করেছিলেন। এরপরও পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছেলের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন রবিউল ইসলাম।

এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারের আলম বলেন, গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর