জয়নাল আবেদিনকে চড়-থাপ্পড় মারার বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল হক প্রথমে দাবি করেন বুধবার তিনি শিক্ষা ভবনেই যাননি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন না করলেই খুশি হবো। আমি মিথ্যা কথা বলতে পারবো না।’
সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গত ৯ আগস্ট তিনি জয়নাল আবেদিনকে কলেজে তার কার্যালয়ে ঢুকতে দেননি। সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়েছেন জয়নাল আবেদিনের বাড়িতেও। কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়া ও বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগে জয়নাল আবেদিন সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। সিরাজুলের ভয়ে তিনি কলেজে যেতে পারেন না বলে জিডিতে উল্লেখ করেন।
এদিকে, অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকায় গভর্নিং বডির সভাপতি ও ইউএনও সোহরাব হোসেন সম্প্রতি কলেজের এক শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন। কিন্তু পরদিনই অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে নেন সিরাজুল হক। তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ঘোষণা করেন। গভর্নিং বডির সভাপতি ও ইউএনও সোহরাব হোসেন বলেন, ‘কলেজে যে এখন কে অধ্যক্ষ, সেটা নিয়েই জটিলতা চলছে। জয়নাল আবেদিন অনুপস্থিত থাকলেও তিনি আবার আলাদা কমিটিও অনুমোদন করিয়ে এনেছেন আমাকে না জানিয়ে। এসব ব্যাপারে করণীয় জানতে চেয়ে আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে লিখেছিলাম। জেলা প্রশাসন আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে এখনও কোনও নির্দেশনা আসেনি।’
শিক্ষা ভবনে জয়নাল আবেদিনকে আরেক শিক্ষকের মারধর করার বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে তো সেটা ফৌজদারি অপরাধ। এজন্য পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। সেক্ষেত্রে যদি সিরাজুল হক অভিযুক্ত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, অভিযোগ দিয়ে গেলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম নিজ দলের মধ্যেই বিতর্কীত । দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কাটাখালি পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ায় দল থেকে বহিস্কার হন। গত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডাঃ কাইছার মেমোরিয়াল মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ সমর্থি ত মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রেখে সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকে দলের নেতাকর্মী তাকে দেখলে ভৎসনা করে।একারনে জেলা বিএনপির সভা সমাবেশে সন্মুখ ভাগে তাকে দেখা যেতো না।
বিএনপি নেতারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক সিরাজুল হককে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবছর ফেব্রুয়ারীতে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।
রাজশাহী জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ওই বছর ৯ মার্চ রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন সিরাজুল হক। এ ছাড়া গত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তিনি। সিরাজুল হক গত বছরের ৬ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাইছার মেমোরিয়াল হাসপাতালে শিক্ষক সমাজের সঙ্গে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় যোগদেন এবং তার পক্ষে বক্তব্য রাখেন।ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিরাজুল হককে দলের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।







