রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

বিজিবি ছিল সীমান্তের রাইফেল, তাদের করা হয়েছে সীমান্তের চৌকিদার

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হাতে নিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশের সম্পদ চৌকস কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল। অনেকের লাশ ড্রেনে ভাসিয়ে দিয়েছিল। অনেকের লাশ পুঁতে দিয়েছিল। অনেকের লাশ পাওয়াও যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর সদস্যদের এনে আদর আপ্যায়ন করেছিলেন। কথিত দুটি তদন্ত কমিটি করেছিলেন। ওই তদন্ত কমিটির কথা জানার দরকার ছিল দেশের সেনাবাহিনীকেও। কারা তাদের সহকর্মীদের হত্যা করেছে, তা জানার দরকার ছিল। কিন্তু তাদের জানতে দেওয়া হয়নি। আমি সরকারকে বলবো, এই হত্যার বিচার করতে হবে। একসময় বিজিবি ছিল সীমান্তের রাইফেল, তাদের করা হয়েছে সীমান্তের চৌকিদার।’শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) কুমিল্লার টাউন হল ময়দানে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে কারোর ওপর প্রতিশোধ নিতে চাই না। প্রতিশোধ মানে আইন হাতে তুলে নেওয়া। আমরা সেটা চাই না। আমরা বিচার চাই। প্রতিটি হত্যা ও অপরাধের বিচার চাই। এসব বিচার যদি না হয় সন্ত্রাসীরা প্রশ্রয় পাবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাস এবং দেশ থেকে যারা যুদ্ধ (জুলাই-আগস্টের আন্দোলন) করেছে তাদের লালগোলাপের শুভেচ্ছা। বিদেশের মাটিতে যারা সংগ্রাম করেছেন তাদেরও সালাম জানাই। এখনও বিদেশের বিভিন্ন জেলে আন্দোলনকারীরা রয়ে গেছেন। সরকারকে অনুরোধ করবো, তাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দিন। না হয় সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন।’

কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার। আমরা বারবার বলেছি বাংলাদেশের কোনও মেজরিটি মাইনরিটি মানি না। ‘মাইনরিটি’ বলে বলে একটি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র করছে। ভারতীয় হলুদ মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। জগন্নাথ হল থেকে আমাদের হিন্দু ছেলেমেয়েরা বের হয়ে প্রমাণ করেছে সেটা ষড়যন্ত্র। কেন ভারত আমাদের সঙ্গে এটা করে। আমরা তাদের কি ক্ষতি করেছি। আমরা কি ভারতের কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছি?’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামের আদালতে একজন আইনজীবীকে কারা খুন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের মুখে চুনকালি লেপে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ বলে দিয়েছে, এই খুনের বিচার হবে। কিন্তু নির্বিচারে সবার গায়ে হামলা করতে চাই না। ভারত কি এমন একটা উদাহরণ দেখাতে পারবে? তাদের দেশের বুকে কি আছে এমন উদাহরণ?

১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া জামায়াতের এই কর্মী সম্মেলনে জনতার ঢল নামে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।


এই বিভাগের আরো খবর