রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

কেন ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহী হানাদার মুক্ত দিবস ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও রাজশাহীবাসী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। ওই দিন রাজশাহী ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলেন লাল গোলা সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। এসময় রাজশাহীর মুক্তিকামী মানুষ স্বজন হারানোর কষ্ট ভুলে স্বাধীনতার স্বাদ নেয় এবং উল্লাস প্রকাশ করে গোলাপ পানি আর ফুলের পাপড়ি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীকে বরণ করে নেয়।


মুক্তিযোদ্ধারা জানান, দেশ স্বাধীনে শেষ দিকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের পাক বাহিনীরা সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে পাক সেনারা পিছু হটে। পিছু হটার সময় পাক সেনারা রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি করে আসে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে অভয়ার ব্রীজ ও সারং ব্রীজ। এই দুটি ব্রীজ ছিল রাজশাহী প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। এই ব্রীজ দুটি স্থানীয়দের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধরা মাটি তুলে ভরাট করে রাস্তা তৈরী করে। এতে একদিন সময় লেগে যায়। ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর বীর প্রতীক নুর হামীম রিজভীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। রাতে শহরের দিকে প্রবেশের জন্য তাদের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু তার সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধরা সেখানেই অবস্থান নেন। পরের দিন ১৮ ডিসেম্বর সকালে রাজশাহী উপশহর সহ বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর পেতে রাখা ল্যাণ্ডমাইণ্ড অপসারণ এবং পুরো এলাকা শক্রু মুক্ত করে। ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন বন্দিশালা থেকে নির্যাতিত মানুষ একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন স্বাধীন বাংলার মুক্ত বাতাসে। মুক্তিকামী জনতার ঢল নামে রাজশাহী শহরের প্রতিটি সড়কে।


এই বিভাগের আরো খবর