বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে ক্রেতাদের চোখ খামারের পশুর দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১২ জুন, ২০২৪

রাজশাহীর হাটগুলোতে পর্যপ্ত গরু মহিষ থাকলেও ক্রেতাদের চোখ খামারের পশুর দিকে। হাটগুলোতে বিপুল সংখ্যক গরু মহিষ উঠলেও ক্রেতা নেই তেমন। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। এদিকে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর বলছে রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় দেড় লাখের বেশী পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
রাজশাহীতে কোরবানীর পশুর চাহিদা ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৮৬টি। আর গবাদি পশুর রয়েছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬টি। রাজশাহী বিভাগে কোরবানীর পশুর চাহিদা ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৪টি। এই চাহিদার বিপরীতে রাজশাহী জেলায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯১০টি। এবং বিভাগে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩২টি।

পবিত্র ঈদুল আযহার দিন যত ঘনিয়ে আসছে রাজশাহীর পশুর হাটগুলো তত জমে উঠছে। রাজশাহীর সবচেয়ে বড় সিটি হাটে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার গরু মহিষ উঠছে। ক্রেতারাও আসছে কোরবানীর পশু কিনতে। তবে যতটা ভীড় সেই তুলনায় ক্রেতা নেই বলে জানান ব্যবসায়ী ও ইজারাদার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা যথেষ্ট হাটে আসছে এবং ব্যাপারীদের কাছে গিয়ে দাম যাচাই করছে। গত বছরের তুলনায় এবছর দাম বেশী বাড়েনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে এই কথার সাথে একমত না ক্রেতারা। হাটে ঘুরে ক্রেতারা জানান, গত বছর যে গরুর দাম ছিল ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সেই সাইজের গরুর দাম হাটা হচ্ছে দেড় লাখ টাকা। ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যাপারীরা পশুর দাম বেশী থাকার কারণে তাদের চাহিদা মতো গরু কিনতে পারছে না বলে জানান।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার ফারুক হোসেন ডাবলু জানান, প্রতি বছরের মতো এই বছরও হাটের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে। হাটে বরাবরের মতো এবছরও পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলো সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। জাল টাকা সনাক্তের জন্য ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি কমিটির নিজস্ব মেশিন রয়েছে। গরু সুস্থ কিনা তা পরীক্ষার জন্য উপজেলার প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ডাক্তার সহ একটি টিম রয়েছে। সব মিলিয়ে হাটের পরিবেশ সুন্দর ও চমৎকার বলে তিনি জানান হাটের ইজারাদার ফারুক হোসেন ডাবল। রাজশাহীর হাটগুলোতে এখন ক্রেতা সংকট থাকলেও ঈদের দুই/তিনদিন আগ থেকে বেচাবেকনা বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ী ও খামারী এবং হাট ইজারাদারদের।

এদিকে ভারতীয় পশুর তুলনায় বাড়ী ও খামারীদের লালনপালন করা গরু মহিষের দিকে নজর বেশী ক্রেতাদের। এ সুযোগে বিক্রেতারাও হাম হাকছেন আকশা চুঙ্গি। বাগমারার কালা মানিক নামের একটি গরুটির দাম হাকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।
খামারীরা বলছে পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও লালন পালনের খবর খরচ বেশী পড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। একারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাম বেশী পড়ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল হাই সরকার বলছেন, রাজশাহী বিভাগে চাহিদার তুলনায় বিপুল সংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রাকৃতিক উপায়ে লালনপালন করায় এর মাংস নিরাপদ এবং খামারীরা লাভবান হবে বলেন জানান এই কর্মকর্তা।

 


এই বিভাগের আরো খবর