বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

রাজশাহী পুলিশ লাইনস স্কুলে দিনভর টান টান উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪

হাই কোর্টের রায় পেয়ে ড. গোলাম মাওলা রাজশাহী শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষের চেয়ারে বসা নিয়ে দিনভর ছিল টান টান উত্তেজনা। স্কুলের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাথে দফায় দফায় অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে পুলিশ ও সিআরটি এর সদস্যরা। পরে পুলিশের উচ্চপর্যয়ের প্রতিনিধি দল এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। ড গোলাম মাওলা জানান তিনি হাইকোর্টের রায় পেয়েছেন বিধায় তিনি বৈধ অধ্যক্ষ। মঙ্গলবার থেকে নিয়মিত কলেজ করবেন। এদিকে তার পুরায় কলেজে ফিরে আসায় খুশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১ টার দিকে স্লোগান দিতে দিতে স্কুলের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ গোলাম মাওলা কে নিয়ে স্কুল এন্ড কলেজে আসেন। অধ্যক্ষর হাতে ছিল হাইকোর্টের রায়ের কপি। কলেজে আসার পর অধ্যক্ষর রুমে তালা থাকায় সেটি ভেঙে শিক্ষককে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এর পরপরই পুলিশ এবং সিআরটি এর সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসে আসে। প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে। দুপুর ১২টার দিকে স্লোগান দেয়া দুই জনসহ ৯ সাবেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে তাদের মোবাইল জব্দ করার চেষ্টা করে। এই নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয় যা দফায় দফায় চলতে থাকে। দুপুর দেড়টার দিকে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীকে টেনে হেচড়ে পুলিশ পিকআপে তোলার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে মুহু মুহু স্লোগান দেয়। শিক্ষার্থীরা কলেজের সব কটি গেট বন্ধ করে দিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এসময় রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এসএম মাহমুদুল হাসান মিঠু সহ অন্যরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশের ডিসি অনির্বাণ চাকমার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। দুপুর দুইটার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে হাইকোর্টের রায় পাওয়া গোলাম মাওলা জানান, তিনি বৈধ অধ্যক্ষ হিসেবেই এখন থেকে তিনি নিয়মিত কলেজ করবেন। তার পাওয়া হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ এলে তিনি চেয়ার ছেড়ে দিবেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেয়ার পর কলেজের কোন শৃঙ্খলা ছিল না। বহিরাগতরা এসেও দাপট দেখা তো,ইফ টিচিং করতো। অধ্যক্ষ গোলাম মাওলা স্বপদে ফেরায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তারা জানান।
এ ব্যাপারে পুলিশ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

 


এই বিভাগের আরো খবর