তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে (জামায়াত) এতদিন মিত্র হিসেবেই গণ্য করে এসেছি। তাদের ওপর যখন অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে ফ্যাসিস্ট বাহিনী, আমরা তাদের সহমর্মিতা জানিয়েছি। তাদের দলকে যখন বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে, ধানের শীষ দিয়ে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়া তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। আমরা অনেকে সেটি পছন্দ করিনি, কিন্তু দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে মেনে নিয়েছি। তার বিনিময়ে কি তাদের এই উক্তি করা সঠিক হয়েছে ? আমরা এই ধরনের উক্তি তাদের কাছে আশা করি না। এই উক্তির কারণে আজকে যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, তাদের মধ্যে ফাটল ধরতে পারে। আশা করি, এই ব্যাপারে তারা (জামায়াত) ভবিষ্যতে আরও যত্নবান হবেন।
কিংস পার্টির ভবিষ্যৎ ভালো হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি— এই দেশে একটি কিংস পার্টি গঠন হতে যাচ্ছে। কিংস পার্টির ভবিষ্যৎ আগেও ভালো ছিল না, ভবিষ্যতেও ভালো হবে না। জুলাই- আগস্টে যে ছাত্র নেতারা আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের সেই সংগ্রামের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। তাদেরকে আবারও অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আগামী দিনে আপনারা কোনও কিংস পার্টি করার চেষ্টা করবেন না।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যেভাবে দেশপ্রেমিক হওয়ার চেষ্টা করছে… দেশপ্রেমিক হোন, জনগণের কাছে যান। জনগণের কাছে আপনাদের কী স্ট্যান্ড সেটি নির্বাচন না হলেতো পরীক্ষা হবে না। আপনারা মনে করেছেন, এতদিনে সাবালক হয়েছেন, একাই নির্বাচন করতে পারবেন, এখন আর বিএনপির প্রয়োজন নাই। মোস্ট ওয়েলকাম। আমরা তাকে স্বাগত জানাই। একটি রাজনৈতিক দলের সে অধিকার আছে, সে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। আমরা আশা করবো, আমরা আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। আমাদের নেতা তারেক রহমানের মূল সুর হচ্ছে— আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। এখন স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের অপকর্মের কথা ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। এখন বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে কোনও সংঘর্ষ হয় কিনা, এটা দেখার জন্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন মহল রয়েছে। আমি বলতে চাই, বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আমরা কারও ছোটখাটো কথা কিছু মনে করি না। ছাত্ররা অনেক কিছু দাবিয়াওয়া করতে পারে, আমরা কিছু মনে করি না। তারা আমাদের সন্তানতুল্য, তারাইতো ভবিষ্যতে দেশকে গড়বে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি উপলব্ধি করুন। নির্বাচন দিতে যত দেরি হবে, শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র করতে তত সুবিধা হবে।
নির্বাচন নিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, আগামী নির্বাচনের কথা বললেই অনেক উপদেষ্টার মুখ কালো হয়ে যায়। আমরা যখন নির্বাচনের কথা বলি, তখন যেন তারা অসন্তুষ্ট হয়ে যান। আজকে জনগণকে এত কেন ভয়? জনগণ ভোট দেবে এটা আপনাদের আতংকের কারণ কেন হয়েছে? আমরা চাই, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। সংস্কারের নামে আর বেশি সময় নেবেন না। হাসিনা পলায়ন করেছে, এখন যে সংস্কার বাকি আছে সেগুলো জনগণ করবে। এখন শুধু অপরাধীদের শাস্তি বিধান করুন। আহত-নিহতদের পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম প্রমুখ।







