রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

রাজশাহী ওয়াসা পানির দাম ৩০ শতাংশ বাড়াতে চায়

আপডেট : শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৫

রাজশাহী ওয়াসার তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা। যার পুরোটাই সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। অপরদিকে শুধু সিস্টেম লসের কারণে ওয়াসার বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ লোকসান থেকে উত্তরণ পেতেই পানির মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে পাঠানো সেই প্রস্তাবনার কপিতে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল্য আবাসিকে ৬ দশমিক ৮১ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ১৩ দশমিক ৬২ টাকা হারে অভিকর নিচ্ছে ওয়াসা। তবে ৩০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করে আবাসিকে ৮ দশমিক ৮৫ ও বাণিজ্যিকে ১৭ দশমিক ৭০ টাকা করার প্রস্তাবনা রেখেছেন তারা।

এছাড়াও আবাসিকে আধা ইঞ্চি পাইপে একতলা ভবনের জন্য মাসে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৯৫ টাকা, ১০ তলা ভবনের জন্য ৮২৫ টাকার পরিবর্তে এক হাজার ৭৩ টাকা মূল্য ধরা হয়েছে। এক ইঞ্চি পাইপে একতলা ভবনে ৩৭৫ টাকার পরিবর্তে ৪৮৮ টাকা এবং ১০ তলা ভবনে ২ হাজার ৭০ টাকা পরিবর্তে ২ হাজার ৬৫১ টাকা। দ্বিতীয় থেকে নবম তলা পর্যন্ত কিংবা ১০ তলার ওপরের তলার জন্য পানির বিল আনুপাতিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘ওয়াসা বলেছিল তারা নগরবাসীকে সুপেয় পানি নিশ্চিত করবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা যে পানির দাম বাড়াতে চায় এটি রাজশাহীবাসীর আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’তিনি আরও বলেন, ‘তারা অতীতেও পানির দাম একসঙ্গে তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে। তখনও আমরা বাধা দিয়েছি। কিন্তু তারা রাজশাহীবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে সময় কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে মিলে এটি কার্যকর করেছে। আবারও যদি তারা পানির মূল্য বাড়ায়, তবে রাজশাহীবাসী এক হয়ে ওয়াসা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করবে।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) নাদিম সারোয়ার বলেন, ‘পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনই বৃদ্ধি হচ্ছে না। দাম বৃদ্ধি হবে কিনা তার সিদ্ধান্তও মন্ত্রণালয়ের। আমরা শুধু প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয় গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ১৬তম বোর্ড সভায়। সে সভায় দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছিল। এর কারণ ছিল পানির ওপর থেকে ভর্তুকি তুলে নেওয়া।’ – বাংলা ট্রিবিউন


এই বিভাগের আরো খবর