ইউক্রেনের জন্য ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুই মার্কিন কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। সূত্রগুলো বলছে, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে কিয়েভ সরকারকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে সংস্থাটি। এই পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলছেন, বাইডেন প্রশাসন ল্যান্ড মাইন, ড্রোন, স্টিংগার মিসাইল ও হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের (হিমার্স) জন্য গোলাবারুদসহ রুশ সেনাদের অগ্রগতি রোধে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ থেকে বিভিন্ন ট্যাংকবিরোধী অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে।
সাম্প্রতিক পিডিএ ঘোষণাগুলোতে এই সহায়তার আকার সাধারণত ১২৫ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে রয়েছে। তবে বাইডেনের আনুমানিক ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পিডিএ ইতোমধ্যে কংগ্রেসে অনুমোদন পেয়েছে, যেটি তিনি ২০ জানুয়ারি রিপাবলিকান নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের আগেই ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।কয়েক দশক ধরে ল্যান্ডমাইন রফতানি করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বেসামরিকদের সম্ভাব্য ক্ষতির কারণে সেগুলোর ব্যবহারও বিতর্কিত। যদিও ১৬০টিরও বেশি দেশ সেগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা বিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে ২০২২ সালের প্রথম দিকে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে এবং রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে চলে আসে, কিয়েভ তখন ল্যান্ডমাইনের অনুরোধ জানায়।তবে যে ল্যান্ডমাইনগুলো ইউক্রেনে পাঠানো হবে সেগুলো ‘অস্থায়ী’ ল্যান্ডমাইন। এটিতে একটি পাওয়ার সিস্টেম রয়েছে যা অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। নির্দিষ্ট সময় পর এর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলো আর প্রাণঘাতী থাকে না।এর অর্থ হলো, পুরানো ল্যান্ডমাইনগুলোর মতো সেগুলো মাটিতে স্থায়ীভাবে পোতা থাকবে না, বেসামরিকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য হুমকিও হবে না।
বিশ্লেষক ও যুদ্ধ ব্লগাররা চলতি সপ্তাহে বলেছেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে ২০২২ সালের আক্রমণের প্রথম দিন থেকে ইউক্রেনে দ্রুততম হারে অগ্রগতি করছে। গত মাসে লন্ডনের আয়তনের অর্ধেক এলাকা দখল করেছে তারা।যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ইউক্রেন নিজস্ব ভূখণ্ডে মাইন ব্যবহার করবে। তবে সেগুলো দেশটির বেসামরিক জনবহুল এলাকায় ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিয়েভে।