আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন দমন অভিযান পরিচালনা করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন এখন পর্যন্ত চলছে। টানা ১৮ দিন ধরে দেশটির ইন্টারনেটবিহীন অবস্থায় থাকার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।
দমন-পীড়নে হতাহতের হিসাব রাখা বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া পরিসংখ্যান প্রকৃত হতাহতের তুলনায় অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এইচআরএএনএ বলেছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; তাদের মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইরানে অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভে হতাহতের প্রথম সরকারি হিসাব প্রকাশ করে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে বলেছিল, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ পথচারী।
নেটব্লকস বলেছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট রয়েছে। এই শাটডাউন বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করে রাখছে।
গত সপ্তাহে ইরানের বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ৮ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। নথি ও সূত্রের উল্লেখ করে ওই দাবি জানায় ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের এই প্রতিবেদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
সূত্র: এএফপি।