সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দুবাই মিডিয়া অফিস বলেছে, কিছুক্ষণ আগে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একেবারে কাছাকাছি এলাকা দু’টি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার পরও বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল, সময় পরিবর্তন এবং রুট পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে এমিরেটস ও ইতিহাদের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। পরে কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হলেও এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলো।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবারের এই হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর প্রায় ১০ কোটি যাত্রী আমিরাতের এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছিলেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার ইরানের একটি ব্যাংকে হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী হুমকি দিয়ে বলেছে, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে ইরান।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফিকারি বলেছেন, ‘‘ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক এবং ব্যাংকিং স্বার্থে হামলা চালাবে।’’
তিনি বলেছেন, ‘‘ব্যর্থ অভিযানের পর সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী এবং নিষ্ঠুর ইহুদিবাদী ইসরায়েল ইরানের একটি ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করেছে।’’
ইব্রাহিম জুলফিকারি বলেন, ‘‘এমন অবৈধ ও নজিরবিহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শত্রুরা আমাদের এই অঞ্চলে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও ব্যাংকগুলোতে আঘাত করতে বাধ্য করছে।’’
ইরানি এই মুখপাত্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।