পদ স্থগিত হওয়া বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, তার বিরুদ্ধে দেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। রাজাকার ও আলবদররা চেষ্টা করছে যাতে তিনি দল থেকে মনোনয়ন না পান। তিনি বলেন, ‘তারা ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে হলেও চাইবে, আমি যেন দলের এমপি মনোনয়ন না পাই। কিন্তু আমার একার ইচ্ছা নয়, আপনাদেরও বলতে হবে আমরা এই নেতা চাই। আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে চাই।’ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা সদরে ফজলুর রহমানের পক্ষে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তার বিরুদ্ধে জামায়াতের অপপ্রচারের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জামায়াত বলছে আমি ধর্ম মানি না। এটা তারা ছাড়া আর কেউ বলেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে সুফিবাদে বিশ্বাস করি। হযরত আব্দুল কাদির জিলানি, খাজা মাঈনুদ্দিন চিশতি, হযরত শাহজালাল ও শাহ পরান এই সুফি ধারার সমর্থক আমি। কিন্তু যারা সুফিবাদে বিশ্বাস করে, তাদের হত্যা করতে চায় জামায়াত। দেশবাসী দেখেছে তারা লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে।’
সমাবেশে নিজের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘হাসিনার পতনের পর আমি বর্তমান সরকারকে জান দিয়ে সমর্থন দিয়েছি। ছাত্র-জনতাকে নিয়ে বহুবার বক্তব্য দিয়েছি। কিন্তু আন্দোলনের ভেতর থেকে এমন কিছু কথা উঠতে শুরু করলো, যা আমি মেনে নিতে পারিনি। তারা বলল, গণতন্ত্র বা ভোটের জন্য আন্দোলন হয়নি, সংস্কারের জন্য হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করা হলো। তখন দেশের মানুষ নীরব, মুক্তিযোদ্ধারা ভয়ে তটস্থ। দলের নেতারাও কিছু বলেন না। আমি তখন বলি, রাজাকারের বাচ্চারা, আলবদরের বাচ্চারা, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ মানতে চায় না, তারা পাকিস্তানে ফিরে যাক।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী রুশো। আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, নীহারেন্দু দেবনাথ, নবী হোসেন তজু মিয়া এবং ফজলুর রহমানের সহধর্মিনী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ছেলে ব্যরিস্টার অভীক রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনায়। তিনি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এমপি প্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তার দলীয় সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।