মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

পাঁচ দাবিতে রাজশাহীতে ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তাদের স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহীতে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে মানববন্ধন করেন তারা। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির ব্যানারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগের আট জেলার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব তারা পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সরকার কাঠামোর মূল ভিত্তি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ ১৮৭০ সাল থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সেবা দিয়ে আসছে। এই কাঠামোর প্রায় সব ধরনের উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মুখ্য ভূমিকা রাখলেও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের পদ-মর্যাদা ও সুবিধা এখনো সমন্বয় করা হয়নি।
তারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগী নির্বাচন, বিভিন্ন সনদ প্রদান, গ্রাম আদালত পরিচালনা, ইউপি উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রকল্প অনুমোদন, ট্যাক্স এসেসমেন্ট, রাজস্ব আদায়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় দায়িত্ব পালন—এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রায় সব কমিটিতে (প্রায় ৩৯টি) সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো ১৪তম গ্রেডেই আটকে আছেন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের সমপদ বা নিম্নপদের অনেকেই ইতোমধ্যে বেতন আপগ্রেডের সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ফাইল একাধিকবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে চলাচল করলেও এখনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

তারা আরও বলেন, সরকারি তহবিল থেকে তাদের বেতনের ৭৫ শতাংশ দেওয়া হলেও বোনাস-আনুতোষিক প্রদানে বৈষম্য রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। তাই যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তাদের ন্যায্য পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারের সেবা আরও গতিশীল হবে এবং গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মমিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মিজানুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিসুর রহমান, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি বজলুর রহমান, বগুড়া জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম শিমুল, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান, নাটোর জেলা সভাপতি দুলাল প্রামাণিক, রাজশাহী জেলা সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দাবিগুলো হলো—
১. ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা;
২. সময়োপযোগী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা;
৩. মন্ত্রণালয় থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান;
৪. অবসরকালীন শতভাগ আনুতোষিক বা পারিবারিক পেনশন প্রদান;
৫. স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন।


এই বিভাগের আরো খবর