বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন পাকিস্তানের ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায়’ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক ফয়সাল হোসেনের বড় ভাই আরমান হোসেন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিনি জানান, ফয়সাল পাকিস্তানে গিয়ে যোগ দিয়েছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান’ নামে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনে।
গত কোরবানির ঈদের আগে তার সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর ফয়সালের আর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায়’ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে মারা যান বাংলাদেশি যুবক ফয়সালও। তার পড়নের পোষাক থেকে আইডি কার্ড, টাকা এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট উদ্ধার করে সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পরে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় নিহতদের ছবি। সেই ছবি দেখে ফয়সালের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরিবার।
নিহত ফয়সালের বাবা আব্দুল আউয়াল মোড়ল বলেন, গত রমজানের মধ্যে রাতের বেলা ফোন করে আমাকে বলেছিল, আমি দুবাই যাচ্ছি। কার সঙ্গে যাচ্ছো এবং কে নিচ্ছে জানতে চাইলে বলে, ‘আপনি চিনবেন না, আমার জন্য দোয়া করবেন’। এই বলে চলে যায়। এরপর প্রায় মাসখানেক আগে আমাদের বাড়িতে ফয়সালের বিষয় খোঁজ নিতে আসে গোয়েন্দা অফিসাররা। তখন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, আমার ছেলে দুবাই না, পাকিস্তান আছে। এখন খবর পেলাম আমার ছেলে মারা গেছে। যারা আমার ছেলেকে এই পথে নেছে তাদের বিচার চাই। আমার ছেলে যদি অপরাধী হয়, তাহলে এখন তো সে মারা গেছে। সরকারের কাছে দাবি আমার ছেলের মরদেহটা যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করেন এবং শেষ দেখাটা দেখে বাড়িতে মাটি দিতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কালাম পড়তো। কারো সঙ্গে বাজে কোনো আড্ডায় ছিল না। আমরা ৪০ বছর যাবত নর্দ্দা বসুন্ধরায় বসবাস করে আসছি। খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন আমার ছেলে ফয়সাল বা আমাদের পরিবারের কারোর নামে কোনো খারাপ রেকর্ড নাই।
এ সময় শেষবারের মতো আদরের সন্তানকে এক নজর দেখার আকুতি জানান মা চায়না বেগম। সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনিও।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবার চাইলে নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত আনতে সহযোগিতা করা হবে। আর কেউ যাতে এমন সংগঠনে আর যুক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক পরিবারের পাশে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।