বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হবে : রাজশাহীতে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে, নাকি অন্য কোনো পথে যাবে।” গণতন্ত্র ধরে না রাখতে পারলে মেগা প্রকল্প, জনগণের প্রকল্প হবে না। যেকোনও মূল্যে গণতন্ত্রের ঝান্ডা ধরে রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সঠিক তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মাদরাসা মাঠে থেকে প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে পদ্মা নদী খনন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, কৃষিভিত্তিক মিল ও ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে সহায়তা, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কৃষি কার্ড বিতরণ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে, ঝগড়া-ফ্যাসাদে যেতে চায় না। সেজন্য আমি কারও সমালোচনাও করছি না। আমি যদি কারও সমালোচনা করি, তবে কারও লাভ হবে? পেট ভরবে?’
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশি রাতের নির্বাচন দেখেছি, গায়েবি নির্বাচন দেখেছি, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি, আপনারা ভোট দিতে। তারা চলে গেছে, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।’


বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ২২ বছর আগের রাজশাহী সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “রাজশাহীর মানুষের ভালোবাসা আমি কখনো ভুলিনি। দীর্ঘদিন পর আবার আপনাদের মাঝে এসে সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে পেলাম।” রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী সদর আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী ১ আসনের প্রার্থী মেজর জেনারেল অব: শরিফ উদ্দিন, রাজশাহী ৩ আসনের প্রার্থী শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী ৪ আসনের বিএনপির প্রার্থ ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, রাজশাহী ৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী ৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ, নাটোর সদর আসনের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ দর আসনের প্রার্থী হারুন অর রশীদ হারুন। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ দত্ত সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্য শেষে প্রার্থীদের হাতে ধানের শীর্ষ তুলে দেন।


এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার পর বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা শরিফে যান। সেখানে জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। পরে দরগার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। দোয়া শেষে তারেক রহমান ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুপুর গড়িয়ে বেলা ২টার দিকে তিনি সভাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে স্বাগত জানান। রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।


জনসভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
রাজশাহীর জনসভা শেষে বিকেলে তারেক রহমান নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সন্ধ্যায় নওগাঁ এটিএম মাঠে আয়োজিত আরেকটি জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি রাতে বগুড়ায় নির্বাচনী জনসভায় ভাষন দিবেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী সফর করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ তিনি ২০০৪ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী সফর করেছিলেন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

 


এই বিভাগের আরো খবর