সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন

বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ করতে রাজশাহীতে জ্বালাও পোড়াও করা হয় : সংবাদ সম্মেলনে রাবি সমন্বয়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৪

রাজশাহীতে ৫ দফা ঘোষণা করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এখন থেকে ট্রাফিক, বাজার মনিটরিংয়ে শিক্ষার্থীরা থাকবে না।, রাতে পাহারায় ১০ জন থাকলেও আইডি কার্ড থাকতে হবে, আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন, কেন্দ্র ঘোষিত সমন্বয়ক ছাড়া কেউ পরিচয় দিলে ব্যবস্থা নেয়া ও রাজশাহী জেলা ও মহানগরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়। সোমবার সকালে লাইব্রেরি চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন স্থানীয় সমন্বয়করা। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয়ক পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে ছাত্ররা জানায়, পরাজিত শক্তি চেয়েছিল আমাদের বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ করতে, অধিকাংশ জায়গাতে তারা জ¦ালাও পোড়াও করেছে। ছাত্ররা বলেন, নগর ভবনে আগ্নিয়ান্ত্র, গুলি ও লাঠিসোঠা পাওয়া গেছে, রাষ্ট্র ভবনে এগুলো পাওয়ার কথা না, তাছাড়া সেখানে পনের বছরে প্রচুর ডকুমেন্ট ছিল সেগুলো পালিয়ে যাওয়ার আগে সেগুলো নষ্ট করে দেয়ার জন্য তারা এগুলো করেছে। এদের সাথে ছিল সুবিধাভোগি শ্রেণীর মানুষ।
এক প্রশ্নের জবাবে সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরী বলেন, শহরে বিশৃঙ্খলা তৈরি ও আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেকেই সমন্বয়ক, সহসমন্বয়ক ও শিক্ষার্থী পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এগুলো নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে রাজনীতি থাকা না-থাকা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মেশকাত বলেন, ক্যাম্পাসে সব প্রকার লেজুর বৃত্তি ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করে রাকসু চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তারা সব সময় রাজপথে সোচ্চার থাকবেন।
উপাচার্যসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ না থাকায় এখনো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আরেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অন্য কর্মকর্তাদের দ্রুত নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাবেন। এ ছাড়া অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় সভাপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য আহ্বান জানানো হবে।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহায়ের ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অর্ধ সহস্রাধিক শহীদ ও দুই হাজারের কাছাকাছি আহত এবং পঙ্গুত্ববরণকারী ভাইবোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই “দ্বিতীয় স্বাধীনতা”র সূচনা। বিপ্লবপরবর্তী সময়ে অন্তর্র্বতীকালিন সরকার ইতিমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন দায়িত্বে ফিরে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সার্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিদ্ধান্তগুলো হলো- রাজশাহী মহানগর ও জেলায় সব ধরনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাহারা থেকে শিক্ষার্থীরা সরে আসবেন। এসব স্থানে রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ তাদের কর্তব্য পালন করবে। শুধু রাত্রিকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ১০ জনের বেশি নয়, এমনসংখ্যক শিক্ষার্থী পাহারার দায়িত্বপালন করতে পারেন। তবে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে পুলিশকে সর্বাত্মক সহায়তা করা; বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহীতে কেন্দ্রঘোষিত সমন্বয়ক পরিষদ ছাড়া কোনো ধরনের সমন্বয়ক নেই; রাবি পরিষদসহ ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে যেকোনো ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন, সুবিধা প্রদান কিংবা ক্ষমতাচর্চার সব ধরনের সুযোগ প্রতিহত করা; দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত আন্দোলনের বাইরে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের অন্যান্য কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে।

 


এই বিভাগের আরো খবর