ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বভাবতই, আমরা সবাই চেয়েছি, আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।’
আসিফ নজরুলের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনিও জানিয়েছেন, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তারা। এজন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, আমরা আইসিসিকে জানিয়েছি, এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেকে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি এবং অনেকের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা এখনো আশা করব বিকল্প ভেন্যুতে খেলার। আমরা যোগাযোগ করব আইসিসির সঙ্গে, তাদের বলব আমরা শ্রীলংকায় খেলতে চাই।
বুলবুল বলেন, আইসিসি আমাদের ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে, কিন্তু একটা বিশ্ব সংস্থা এটা করতে পারে না। তারা ২০০ মিলিয়ন মানুষকে বিশ্বকাপ দেখানোর থেকে বঞ্চিত হবে। এটা তাদের জন্য একটা বড় ক্ষতি।
কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে আইসিসি কর্তৃক ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলার সমালোচনা করে বিসিবি সভাপতি বলেন, মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফিজ নিজে সরে যায়নি, মুস্তাফিজের ইনজুরি হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার এনওসি ক্যান্সেল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এরপর আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা বিকল্প ভেন্যুতে খেলতে চাই।
এর আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ক্রিকেটাররা কী বলেছেন সেটি বলতে রাজি হননি ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি।