রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

ভারতের উদ্দেশ্য ভয়ঙ্কর খারাপ : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারত আমাদের দেশের মানুষকে গিনিপিক ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক মনে করে। আমরা যে ৩০ লক্ষ্য শহীদের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। এতো মানুষের আত্মনাৎ, এতো নারীর সম্ভমহানীর মধ্যে দিয়ে সেটা তারা মানতে চায় না। পার্শ্ববর্তি দেশের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। মঙ্গলবার ১১টায় দেশীয় পণ্য, কিনে হও ধন্য ‘ ব্যানারে রাজশাহী নগরীর ভুবন মোহন পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আজগুবি অপপ্রচার করছে এদেশের হিন্দু মুসলিমের ভাতৃত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য। তাদের উদ্দেশ্য ভয়ঙ্কর খারাপ। তারা চট্টগ্রাম দাবি করলে, আমরা নবাবের আমলের বাংলা বিহার উড়িষ্যা দাবি করবো।

তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জীর ললিপপ খাওয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আমাদের চট্টগ্রামের দিকে তাকাবেন না। তাকালে আমরা কী আমলকি চুষবো না? তা তো চুষবো না। তিনি বলেন মমতা ব্যানার্জীকে আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ মনে করতাম। আদতে ভারতের রাজনীতিবিদদের গোড়া রসুনের মত একই জায়গায়। আপনাদের গভীরে কট্টর হিন্দুত্ববাদী লুকিয়ে থাকে। যখন দেখলাম আপনি বললেন বাংলাদেশে শান্তিবাহিনী পাঠানো দরকার। একটি সার্বভৌমত্বের দেশে কিভাবে অন্য একটি বাহিনী পাঠায়। আপনি আন্তর্জাতিক আইন জানেন না। আপনি অর্বাচিনের মতো কথা বললেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে কী হয়েছে আমাদের? আমাদের একজন ভয়ংকর ফ্যাসিস্টকে ছাত্র-জনতা তাড়িয়েছে। তিনি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এই জন্য তাদের এত কষ্ট, এত ব্যথা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় ভারতের রাজ্য থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির মন খারাপ। তারা এদেশের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে না; বন্ধুত্ব করে শেখ হাসিনার সাথে। সে কারনে শেখ হাসিনা ভারতের তাবেদারী করে এতো দিনে টিকে ছিল। নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশ ভারতে তাবেদারী আর করবে না।

রিজভী বলেন, ‘ভারতের সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রায়ই সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করে। এ জন্য বিশ্বের অনেকে তাদের প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার দেয়। আসামে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী বলছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার। গুজরাটে দুই হাজারের মতো মুসলিম নর-নারীকে হত্যা করা হয়। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সে সময় সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আপনারা সেটা ভুলে গেছেন। আপনারা প্রত্যেক জায়গায় বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার করছেন।’তিনি বলেন, আমাদের জামদানি শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত। রাজশাহীর সিল্কও পৃথিবী বিখ্যাত। এ দেশের নারীরা কেন ভারতের শাড়ি কিনবে? ভারত যখন আমাদের উপহাস করে, ঘৃণা করে, তাহলে কেন তাদেরটা কিনব? এখানে সবই উৎপাদন করা হয়। আমরা কারও অধীন থাকব না। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াব।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশিদের ভারত থেকে শাড়ি, সাবান, বিছানা, চাদর বা অন্য কিছু কেনা উচিত নয়।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরেও বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ আলী এশা, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ।

বক্তব্য শেষে রুহুল কবির রিজভী তিনি ভারতীয় একটি জয়পুরি বিছানার চাদর পোড়ান। পরে স্বল্প মূল্যে দেশি লুঙ্গি, শাড়ি, সাবান ও পাঞ্জাবি বিক্রি করেন প্রান্তিক মানুষের মধ্যে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগরের সদস্যসচিব মো. মামুন-অর-রশিদ প্রমুখ।


এই বিভাগের আরো খবর