মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

রাকসুর ভোট আজ, বিপুল সংখ্যাক পুলিশ বিজিবি মোতায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ, আগামী কাল ১৭ কেন্দ্রে ভোট গ্রহন। ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি প্রায় তিন হাজার সদস্য মোতায়ন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয় পরাজয় মেনে নিবে প্রার্থীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দুই দফায় প্রায় ২০ দিন প্রচার প্রচারণার উত্তাপ ছড়িয়ে ক্যাম্পাস এখন পুরোপুরি শান্ত। তবে ভোটর উত্তাপ আছে চায়ের আড্ডায় টুকিটাকি চত্বর থেকে পরিবহন মার্কেট, আম তলা থেকে লিচু তলা। সব স্থানেই প্রার্থী বাছাই আলোচনা নিয়ে মেতে আছে শিক্ষার্থীরা। ভোটাররা মুখিয়ে আছে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য। ইতো মধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশনার। ৯ ভবনে ১৭টি ভোট কেন্দ্রে ৯৯০ টি ভোটারদের জন্য গোপন বুথ তৈরী শেষ হয়েছে। নিদিষ্ট সময়ের আগেই কখন কিভাবে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার ও অমোচনীয় কালী সহ নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্র গুলোতে পৌচ্ছানো হবে তার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত। ৩৫ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন না হওয়ার যে আক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা আগামীকাল নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ঘুচতে যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনের দিন দুই হাজারের বেশী পুলিশ, ৬ প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র‌্যাব মোতায়ন করা হবে। ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে সিনেট ভবনে রাকসু নির্বাচনের সাবির্ক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছন নির্বাচন কমিশনারা। প্রধান নির্বাচন বলেছেন, ভোট গ্রহনযোগ্য ও অংশগ্রহন মুলক করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনটি প্রক্রিয়ায় ভোটারদের চিহ্নিত করে ব্যালট পেপার দেয়া হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট এবং হল সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার অতিরিক্ত ছাপানো হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি বলেন, রাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার যেন তেন কোনো জায়গা থেকে প্রিন্ট করানো হয়নি। নাম সর্বস্ব কোনো প্রেসের কাছে এটি প্রিন্টে দেওয়া হয়নি। যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন বা পরীক্ষার কাজ করে থাকে এমন অভিজ্ঞতা আছে তাদের কাছে থেকে করানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর কোথাও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার প্রদান করা হয় না। আমাদের ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১, আমরা ২৮ হাজার ৯০১টি ব্যালট ছাপিয়েছি। একটিও বেশি কম ছাপানো হয়নি। প্রতিটা কেন্দ্রে নির্ধারিত ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। এখানে কম বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে ভোট গণনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়েমার্ক রিডার মেশিন সংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি সেগুলো ফলাফল সেন্টারে স্থাপনের কাজ চলমান শেষ পর্যায়ে। আজ (১৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এসব মেশিন থেকে ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দেওয়া সম্ভব। এছাড়া নির্বাচনের প্রতিটি কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২১২ জন শিক্ষকদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষকে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকি শিক্ষকদের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারাই এই ভোট পরিচালনা করবেন। এছাড়া ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে দুই হাজার পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি এবং ১২ প্লাটুন র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, প্রধান নির্বচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম, প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমানসহ নির্বাচন কমিশনাররা।

রাকসুতে ২৩টি পদে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ ১২টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন ২৪৭ প্রার্থী। এরমধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ ও এজিএস পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে নির্বাচনে জয় পরাজয় আছে, ভোট কারচুপি না হলে ফলাফল মেনে একসাথে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

 


এই বিভাগের আরো খবর