রাজশাহী জেলার প্রাণ কেন্দ্র গণকপাড়ায় বৈষ্ণবসভা মন্দিরের জায়গা জাল দলিলের মাধ্যমে নিজ নামে খারিজ করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জনৈক্য অরুন চাক্রবর্তী ও তার ছেলে রাজিব চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে । আদালতের রায় নিয়ে সেই জায়গা পুনরুদ্ধারে গেলে মন্দির কমিটির সদস্যদের উপর হামলা ও মারধরের অভিযোগও উঠেছে। নগরীর ধর্মসভা প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বৈষ্ণব সভা মন্দির কমিটির সদস্যরা। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অশোক সাহা লিখিত বক্তব্য জানান, রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানাধীন রামপুর মৌজার আর এস, ৩০৭ খতিয়ানে যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ দাগে মোট ০.০৬১৮ একর জমির উপর একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মন্দির আছে। যার নাম “বৈষ্ণব সভা মন্দির”। আর,এস ৩০৭ রেকর্ড অনুযায়ী যার মালিক বৈষ্ণব সভা সম্প্রদায়ের পক্ষে বজেন্দ্র মোহন মৈত্র।
সংবাস সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি মন্দিরের পূর্ব পার্শ্বে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের সময় মন্দিরটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং এর মূল অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। এরপর ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান “মুক্ত হোমস” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল মুকতাদির (মুক্তা) সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিজ অর্থায়নে মন্দিরটির অবকাঠামো নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ নিয়ে গত ৩০ আগস্ট ২০২৩ইং তারিখে মন্দির কমিটির সাথে তার একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইতিমধ্যে নতুন মন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে পরিচালনা কমিটি পুরাতন ভবন অপসারণ করেন। উল্লেখ্য মন্দিরটির দক্ষিণ পশ্চিম অংশে মোট ৬টি দোকানঘর আছে। তৎকালীন মন্দির কমিটি মন্দিরের ব্যয়ভার পরিচালনার জন্য ঐ দোকানঘরগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ভাড়া প্রদান করে। সম্প্রতি নতুন মন্দির নির্মাণের জন্য ভাড়াটিয়াগণদের সাথে যোগাযোগ করিয়া চুক্তিপত্র অনুযায়ী দোকানঘরগুলো ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তারা অসম্মতি জানান এবং ১০৭ ও ১৪৪/১৪৫ ধারায় মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে ১০টি মামলা করে ।
ঐ মামলাগুলো মহামান্য আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে ৬টি দোকানঘরের মধ্যে ১টি দোকান ঘর বিবাদী অরুন চাক্রবর্তী, রাজিব চক্রবর্তী ও মীরা চক্রবর্তী গং ৯৪৮২ নং জাল দলিলের মাধ্যমে নিজ নামে খারিজ করে নেয়। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সহকারী (ভূমি) বোয়ালিয়া অফিসে ২০২৩ মামলা করেন। মামলায় বিজ্ঞ আদালত মন্দির কমিটির পক্ষে গত ২৬ডিসেম্বর ২০২৩ইং তারিখে একটি আদেশ প্রদান করেন। বিবাদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজশাহী আদালতে আপীল করলে পুনরায় মন্দির কমিটির পক্ষেই বিজ্ঞ আদালত ২৯অক্টোবর ২০২৪ তারিখে আদেশ প্রদান করেন। এমনকি জেলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিবাদী অরুন চক্রবর্তি মামলা নং ২৪২/২৩ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করিলে সেই মামলাটি ও গত ১১আগস্ট২০২৪ইং নামজুর করে দেয় এবং জাল ৯৪৮২ নং দলিলটি সেভ কাষ্টডিতে রাখার আদেশ প্রদান করবেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন ৯ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে মন্দির কমিটি লোক মারফত জানতে পারেন অরুণ চক্রবর্তী মেসার্স বিস্কুট বিপনী নামক এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া প্রদানের ষড়যন্ত্র করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি অরুন চক্রবর্তিকে অন্যত্র ভাড়া না দেবার জন্য অনুরোধ করলে বিবাদী অরুণ চক্রবর্তী ক্ষীপ্ত হয়ে অন্যান্য ভাড়াটিয়া সহ তার পক্ষের অনুমান ৪০/৫০ জন লোক নিয়ে তাঁর ও তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের উপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। ফলে ঘটনাস্থলে মন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন বলে জানান।
তিনি আরো উল্লেখ করেন এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানাভাবে তারা তাদের হুমকি প্রদান করে আসছে। এই বিষয়ে ৯ জানুয়ানী ২০২৫ তারিখ বোয়ালিয়া মডেল থানা রাজশাহীতে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে মন্দির কমিটির পক্ষে তিনি ২টি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। কিন্তু আজ অবধি তারা কোন প্রতিকার পান নাই। এমনকি থানা তাদের কোন মামলা গ্রহণ করে নাই। এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে উভয় পক্ষকে অভিযুক্ত করে কৌশলে গত ১১জানুয়ারী ২০২৫ইং ১০৭/১৭ একটি মামলা দায়ের করেছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পুলিশ কমিশনার ও ডিসি বরাবর তাঁরা দুটি আবেদন পত্র জমা দেন। কমিশনার সংশ্লিষ্ট বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আজ অবধি কোন প্রকার সমাধান তারা পাননি। এখন তারা নিরাপত্তা হীনতায় দিন কাটাচ্ছি। দোকানঘর ভাড়াটিয়াদের হুমকি ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে আজও নতুন মন্দির স্থাপন করা সম্ভব হয় নাই বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পুলিশের নিরবতা ও হামলাকর্মীদের হামলা, মামলা ও হুমকীর দাতা ও হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী এবং মন্দির রক্ষায় তারা প্রসাশনের প্রতি অনুরোধ করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহেশ চন্দ্র সরকার, সাংগঠনক সম্পাদক সনৎ কুমার সাহা, প্রচার সম্পাদক পাপ্পু দাস, সদস্য আকাশ কুমার দাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অচিন্ত কুমার রায় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার উপস্থিত ছিলেন।