বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

রাজশাহী জেলা ও মহানগরীর কামারপট্টিতে পা রাখতেই দূর থেকে ভেসে আসছে হাতুড়িপেটা আর ধাতব বস্তু শান দেওয়ার একটানা শব্দ। কাছে যেতেই চোখে পড়ে ছোট গর্তে কয়লার তীক্ষ্ণ আগুনের ফুলকি। তাতে লৌহদণ্ড পুড়ে লাল-হলুদ রঙে গনগণে হয়ে উঠছে। তারপর লৌহপাতের ওপর নেমে আসছে একের পর এক হাতুড়ির আঘাত।পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর সরঞ্জাম তৈরিতে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তৈরির পাশাপাশি শান দিচ্ছেন চাপাতি, দা, বটি, ছুরিসহ নানা রকম ধারালো সরঞ্জামে। কয়েকদিন ধরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এসব চিত্র।

কারিগররা বলছেন, দু-এক দিনের মধ্যে জমে উঠবে দা-ছুরি কেনাবেচা। তাই দম ফেলারও যেন সময় নেই তাদের। ইতিমধ্যে টুকটাক ক্রেতা আসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ কিছুটা কম দামে পেতে আগেভাগে এসব সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে রাখছেন।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের অন্য সময় কাজের চাপ তেমন বেশি থাকে না। কোরবানির ঈদের আগে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি আগুনে পোড়ে লোহা, আর চলে হাতুড়ি পেটার কাজ। ক্রেতার আনাগোনায় সরগরম হয়ে ওঠে কামারের দোকান।

রাজশাহী সিরোইল কামারপট্টিতে চাপাতি ও চাকু কিনতে এসেছেন আব্দুর রহীম নামে এক ব্যক্তি  বলেন, যাত্রাবাড়ি থেকে এখানে আসছি চাপাতি ও চাকু কিনতে। ৭৫০ টাকা দিয়ে চাপাতি কিনেছি। আগে দাম কম ছিল, এখন বাড়তি। আগে আড়াই শ থেকে তিন শ টাকা দিয়ে কিনতাম। কিন্তু এখন সাত শ টাকা দিয়ে কিনতে হলো।আব্দুর রহীম ছাড়াও একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে বিক্রেতাদের দাবি, বর্তমানে বাজার দর এমনই। দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে না। সাহেব বাজারের এক বিক্রেতা জানান, চাপাতি ভালোটা ৭০০ টাকা, জবাই করার ছুরি বড়টা সাড়ে ১২শ থেকে ১৮শ টাকা, ছোটটা সর্বনিম্ন সাড়ে ৬শ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২শ থেকে ৩শ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর