তার পরেই মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের (প্রতিবাদের) ঘটনায় অন্য কোনও রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হলে তা বাতিল বলে ধরে নেওয়া হবে।’’ তবে যে ২,৮৭৩ জন আন্দোলনকারী অতীতে অপরাধে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করবে দিল্লি পুলিশ।
কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের সওয়াল
২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকার এবং সিজেপির মধ্যে কী আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে মঙ্গলবার আদালতকে বিস্তারিত তথ্য দেন সলিসিটর জেনারেল মেহতা। তার পরেই তিনি দিল্লি পুলিশের আবেদনের কথা উল্লেখ করেন। আবেদনে দিল্লি পুলিশ জানায়, অতীতে অপরাধের মামলা রয়েছে এমন ২,৮৭৩ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করা হবে। মেহতা এ-ও জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি রেখে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, মহারাষ্ট্র সরকার সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছে। নিট কেলেঙ্কারির পরে যে পড়ুয়ারা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবনাচিন্তার জন্য তিন মাস সময় চেয়েছে তারা। সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে তিন মাস সময় দিয়েছে। পাশাপাশি জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপে আহতদের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
সিজেপির ঘোষণা
৫ সেপ্টেম্বর যে কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছিল সিজেপি, তা বাতিল করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘‘ভারত সরকার ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। তাই সিজেপি মনে করছে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা উচিত।’’ তার পরেই প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘উভয় পক্ষই ভাল আচরণ করলে সব কিছুরই সমাধান সম্ভব।’’
নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল কলকাতা, মুম্বই-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে। দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সে সময়ে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের জেরে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পরে কেন্দ্রের সঙ্গে ফের এক দফা বৈঠকে বসেন সিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, কেন্দ্র তাঁদের সব দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন বলে ঘোষণা করেন সিজেপি নেতৃত্ব।
তার পরে এক মাস কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ করে সিজেপি। তারা দিল্লিতে কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করে।
সিজেপির ওই প্রতিবাদ মিছিল আটকাতে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। দিল্লি পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ওই মামলাটি করেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলাকারীর আইনজীবী। মিছিল বন্ধের বিষয়ে কোনও জরুরি নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, সিজেপির ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে বলে এখনই ধরে নেওয়া যায় না। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এ-ও জানায়, সব পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং আইন মেনে চলবে বলেই আশা করছে তারা। তার পরেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্র। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিল করার আর্জি জানায়। মনে করা হচ্ছে, আরশোলাদের চাপেই সেই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। সিজেপি জানায়, তারাও আর ৫ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি করবে না। কারণ, কেন্দ্র কথা রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের আর্জি মেনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিল করল।