স্যাঁটা কাকে বলে? তার বাড়ি কোথায়? কী ভাবেই বা তাকে গরম করা যায়? প্রশ্নগুলো সহজ হলেও উত্তর খুঁজছেন অনেকেই। সৌজন্যে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষায় দুর্নীতি রোখার প্রশ্নে ‘স্যাঁটা গরম’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার পর থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে, স্যাঁটা কাকে বলে? কী এই স্যাঁটা?
তৃণমূলের জমানায় কলেজে কলেজে সব থেকে বড় অভিযোগ ছিল টাকার বিনিময়ে ভর্তি। দেদার তোলাবাজি নিয়ে সরব ছিল বিরোধীরা। তৃণমূলের মধ্যেও এই আলোচনা ছিল, উচ্চ মাধ্যমিকের পরে কলেজে ভর্তি শুরু হলেই এক শ্রেণির ছাত্রনেতা ফুলেফেঁপে ওঠে। যে কারণে শেষ কয়েক বছর কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইন ভর্তিপ্রক্রিয়া চালু করতে হয়েছিল বিকাশ ভবনকে। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই জগন্নাথ বলেছেন, ‘‘কোথাও যদি কলেজ ভর্তি নিয়ে কেউ টাকা তুলছে, সে যে-ই হোক, হঠাৎ বিজেপি-ও যদি হয়, শোনা যায়, স্যাঁটা গরম করে দেওয়া হবে।’’
চন্দ্রবিন্দুহীন ‘স্যাটা’ বাঙালির কাছে পরিচিত। ‘চৌরঙ্গী’তে সত্যচরণ বোস ওরফে ‘স্যাটা বোস’কে তুলে ধরেছিলেন সাহিত্যিক শঙ্কর তথা মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। কিন্তু চন্দ্রবিন্দুযুক্ত ‘স্যাঁটা’? এই শব্দের ব্যাখ্যা জানতে আনন্দবাজার ডট কম-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল মন্ত্রী জগন্নাথের সঙ্গে। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘আমাদের বীরভূমে নানা অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূলত কোমর ভেঙে দেওয়া, উচিত শিক্ষা দেওয়া, কঠোর শাস্তি দেওয়া ইত্যাদি।’’
রাজনীতিকদের শব্দচয়ন এবং তা ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সংসদে এক মহিলা সাংসদের মুখে ‘চুদুরবুদুর’ শব্দ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। বিএনপি-র সাংসদ রেহানা আক্তার রানু সংসদের অধিবেশনে নিদর্লীয় সরকারের দাবি তুলে ধরতে গিয়ে নিজের জেলা ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় বলে ওঠেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়া কোনও চুদুরবুদুর চইলত না।’’ সেই শব্দ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে। বিতর্কের আঁচ এসে পড়ে সীমান্তের এ পারেও। ভাষাবিদেরা খুঁজতে বসেন ‘চুদুরবুদুর’-এর অর্থ। ১৩ বছর আগে ভাষাবিদ পবিত্র সরকার জানিয়েছিলেন, ‘চুদুরবুদুর’ কখনওই অশ্লীল নয়। তা একেবারেই গ্রাম্য শব্দ। একই মত ছিল ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক নির্মল দাসেরও। মূলত বাড়াবাড়ি করা বা গড়িমসি অর্থে ‘চুদুরবুদুর’ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।