এক দিকে দুঃসহ দাম্পত্য, অন্য দিকে বদলে যাচ্ছে জীবিকার অর্জনের পরিকাঠামো। এই দ্বন্দ্বকে প্রেক্ষিতে রেখেই তৈরি কানু বহেল পরিচালিত, মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত ছবি ‘ডেসপ্যাচ’। থ্রিলার ঘরানার এই ছবির বিষয় টু জি স্পেক্ট্রাম স্ক্যাম। ছবিমুক্তি ওটিটি মঞ্চে। সুতরাং ইদানীং কালের কৌলিক অনুযায়ী তাকে ‘থ্রিলার’ হতেই হয়। কিন্তু যে ধরনের থ্রিলার দেখে ওটিটি-দর্শক অভ্যস্ত, এ ছবির ব্যাকরণ সেই ধাঁচার ধারকাছ মাড়ায়নি। গতিময় কন্টেন্টের যুগে এ ছবি মন্থর। তিক্ত। কখনও কখনও ‘থ্রিল’-এর কাঙ্ক্ষিত তরঙ্গ থেকেও সরে আসা। তবু এ ছবিতে এমন কিছু রয়েছে, যা প্রায় আড়াই ঘণ্টা দর্শককে বাধ্য করে পর্দায় চোখ রাখতে এবং সেই সঙ্গে মনও। তার অন্যতম কারণ অবশ্যই মনোজ বাজপেয়ী।
এ ছবিতে মনোজ বাজপেয়ী আবারও প্রমাণ করলেন, এখনও বহু বিচিত্র খেলা তিনি দেখাতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত।টু জি স্পেক্ট্রাম স্ক্যাম নিয়ে নাড়াঘাঁটা করতে হলে আজ অন্তর্জালের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই আম ভারতীয়ের বেশির ভাগেরই। বাস্তবে এই স্ক্যামকেই কি পর্দায় ধরতে চেয়েছেন ‘ডেসপ্যাচ’ ছবিতে পরিচালক কানু বহেল? সে ক্ষেত্রে এ ছবি অবশ্যই একটি বিশেষ সময়ের বার্তাবহ। সময়টি বিশ্বায়নের পর্বের এক সন্ধিসময়। যখন বিশ্ব প্রায় অজান্তেই মানুষের ‘মুঠোবন্দি হচ্ছে, এ ছবি সেই কালপর্বের। সুতরাং, গোড়া থেকেই একটি ‘পিরিয়ড পিস’ নির্মাণের সম্ভাবনা এ ছবিতে ছিল। অদূর-অতীতকে সাম্প্রতিক কালে বেশ কিছু হিন্দি মূল ধারার ছবিতে তুলে আনার প্রয়াস দেখা গিয়েছে। তার কোনওটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি, কোনওটি আবার রাজনীতিকে আবছায়ায় রেখে কাহিনিকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত ছবি। টু জি-কাণ্ড নিয়ে ছবি তোলার সময়ে একটা বড়সড় সম্ভাবনা ছিল, সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কাছে চিত্রনাট্য ও পরিচালনার আত্মসমর্পণের। কিন্তু ‘ডেসপ্যাচ’ সে রাস্তায় হাঁটেনি। অথবা ইদানীং কালের ওটিটি কন্টেন্টের সবচেয়ে বড় প্রলোভন থ্রিলারধর্মিতাকে গোয়েন্দা কাহিনির ‘হুডানইট’-এর দিকে নিয়ে যাওয়ার, ‘ডেসপ্যাচ’ সেই পথও মাড়ায়নি। বদলে এ ছবি এমন এক অনির্দেশ্য সমাপনরেখার দিকে চোখ রাখে, যা বহু কাল হিন্দি মূলধারার ছবিতে দেখা যায়নি।
আড়াই ঘণ্টা ধরে মনোজ একটি জটিল চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যোগ্য সঙ্গত করেছেন সাহানা গোস্বামী, অর্চিতা আগরওয়াল। অনেক দিন পরে ঋতুপর্ণা সেনকে দেখা গেল এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। ছবি: সংগৃহীত।