জানা গেল, দক্ষিণ কলকাতার পুরনো বাড়িতে শুটিং চলছে। গুগ্ল ম্যাপ ধরে বাড়ির সামনে যেতেই দেখা গেল অতি পরিচিত দীর্ঘাঙ্গীকে, নীল জিন্স ও কুর্তা পরে বাড়ির দরজাতেই তিনি উপস্থিত। বোঝা গেল, কলকাতার সাংবাদিকদের কাছে এই শুটিংয়ের খবর তেমন ভাবে পৌঁছয়নি। নয়তো নুসরত জাহানকে এমন খোলা জায়গায় নিজের মতো ঘুরতে দেখা যেত? আর ঠিক তাঁর পাশেই অনুরাগীরা যাঁকে দেখতে চায়, সেই যশ দাশগুপ্ত। দু’জনে কাছাকাছি, প্রেম নয়, ঘোরতর কাজের বাক্যালাপ

যশ-নুসরতের দিক থেকে চোখ ফেরাতেই ঘরের মধ্যে তাঁর সঙ্গে দেখা হল, ‘বালিকা বধূ’ না কি ‘ওগো বধূ সুন্দরী’? একটুও ভাবার সময় দিলেন না। অনেক দিন পরে খুব পরিচিত কাউকে যেন দেখতে পেয়েছেন, এমন ভাব করে বললেন, “তুমি তো সাংবাদিক, প্রশ্ন করতে এসেছ। যা ইচ্ছে জিজ্ঞেস করতে পারো। চলো, শুরু করি।” মা-ছেলের গল্প নিয়ে নতুন বাংলা ছবি, নাম ‘আড়ি’। অভিনেত্রী মৌসুমি চট্টোপাধ্যায় সেই কারণেই মুম্বই থেকে ঝটিতি সফরে কলকাতায়। পরিচালক জিৎ চক্রবর্তী মুম্বই গিয়ে তাঁকে ‘আড়ি’র চিত্রনাট্য শুনিয়ে এসেছিলেন। মৌসুমি বললেন, “বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাবাদের নিয়ে বাড়াবাড়ি। মা-ছেলের গল্প আমার ভাল লেগেছিল।” কয়েক দিন আগেই তাঁর বড় মেয়ে পায়েলের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। নিজে থেকেই সেই প্রসঙ্গ তুলে বললেন, “পায়েল চলে যাওয়ার পর আমি তো সাত বছর বাড়ি থেকে বেরোতেই পারিনি। আমার স্বামীও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শোককে যেমন মেনে নিতে হবে, তেমনি বাইরে ব্যক্তিগত শোক প্রকাশ করা চলবে না। এখন সময়টা অন্য রকম।”

একশো জনের ইউনিট কাজ করছে এই ছবিতে। নুসরত-যশের আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে উপরি পাওনা পুনমের তত্ত্বাবধান। কী খাবেন, কোন সময় খাবেন, কখন বিশ্রামের প্রয়োজন, এমনকি জল খাওয়া কম হলেও জলের বোতল এগিয়ে দিচ্ছেন পুনম নিজেই। পুনমের দিকে তাকিয়ে মৌসুমি বললেন, “আমাকে জল খাওয়াচ্ছে, কিন্তু নিজেই সারা দিনে জল কম খায়। নিজের যত্ন তো শিখতে হবে। যে মেয়েরা নিজেদের যত্ন করে তাদের আমি বেশি ভালবাসি।”

