তিনি বলেন, নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বৈঠকে বসছে। মঙ্গলবার বন্যা দুর্গত পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশ পরিদর্শনে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন মোদি।
মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী অলি প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, সমস্যার সমাধান সহজতর এবং সাংবিধানিকভাবে রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করার জন্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং রাজনীতিবিদদের বাড়িঘরে আক্রমণ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, দেশটির কয়েকজন মন্ত্রীকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অলির সরকারি বাসভবন এবং সিংহ দরবার প্রশাসনিক ভবনের কিছু অংশেও আগুন দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ভারী ধোঁয়ার কারণে কাঠমান্ডুর প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অলির পদত্যাগের খবরে উল্লসিত তরুণরা সংসদ ভবনে ঢুকে দেয়ালে ‘আমরা জিতেছি’ স্লোগান লিখে দেয়। তবে আন্দোলনের নেতারা সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই আন্দোলনের লক্ষ্য জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা নয়।
২০০৮ সালে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই নেপাল রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। গত ১৭ বছরে দেশটিতে ১৪টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে কোনো সরকারই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। অলি গত বছর চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
ভারতের জন্য নেপালের স্থিতিশীলতা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন থাকলেও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।