
এদিকে ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে থেকেছেন তবে রাজপথে নামেননি অনেকেই। চিত্রনায়ক সায়মান সাদিক, অভিনেত্রী শাহনুর, আশনা হাবিব ভাবনাসহ আরও কিছু তারকা সেই গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। যারা ফেরদৌস-রিয়াজদের নির্দেশনা মোতাবেক রাজপথে নামতে পারেননি, তবে তাদের আন্দোলনের পক্ষ আছেন বলে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট যখন ফেরদৌস শিল্পীদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান, তখন চিত্রনায়িকা শাহনুরকে বলতে দেখা যায় ‘আমরা যশোর আছি। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারছি না। কষ্ট লাগছে। আমি আপনাদের সাথে আছি সবসময়।’

একইসময়ে চিত্রনায়ক সায়মন সাদিক ও অভিনেত্রী ভাবনাকেও একই রিপ্লাই দিতে দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ভাবনা জানান, আমরা একসঙ্গে কিশোরগঞ্জে থাকায় আসতে পারছি না। তবে মনটা পড়ে আছে। জয় বাংলা’আলোচনার মাঝে ভাবনাকে নিয়ে এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘”আলো আসবেই” গ্রুপের মেম্বার’। অন্য একজন লিখেছেন, ‘২০২৪-এর আন্দোলনের সময় ওই গ্রুপে যা ঘটেছিল, তা জাতি ভুলেনি।’ এমন সব সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন ভাবনা।

রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ভাবনা দাবি করেন, তিনি কোনো পক্ষ হয়ে কাজ করেননি। তার ভাষ্য, ‘৫০ মিনিটে তাদের সাথে কী কী কথা হয়েছে, সব টেলিভিশনে দেখতে পারবেন। অনেকদিন চুপ ছিলাম। একজন শিল্পী হিসেবে আমি জীবনেও কারও কাছ থেকে এক বিন্দু সুবিধা নিইনি। তবুও যেভাবে আমি বুলিং, অপমান থেকে শুরু করে আরও ভয়ংকর অনেক কিছুর শিকার হয়েছি, তা বলব কোনো একদিন।’
নিজেকে অরাজনৈতিক উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে লাভ নেই। আমি একজন শিল্পী, আমি কাজ করব। সবার সাথেই কাজ করব। যেমন একজন ব্যবসায়ী সবার সাথে কাজ করে, যেমন একজন চাকরিজীবী সবসময় কাজ করে। একজন শিল্পী হিসেবে আমাকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ডাকলে আমি যাব, আমি কাজ করব।’
ভবিষ্যতে রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই জানিয়ে ভাবনা বলেন, ‘আমি কোনো দলের হয়ে কাজ করিনি, রাজনীতির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, ছিলও না। ভবিষ্যতে হলে অবশ্যই আপনারা জানবেন। আমি কেবলমাত্র একজন শিল্পী হয়ে থাকতে চাই। অনেক পেছনে লাগছেন, এবার একটু আমাকে কাজ করতে দিন। ছবি আঁকতে দিন, কবিতা লিখতে দিন।’