সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ :
আপডেট : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টায় কয়েকজন সহকর্মী তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা অভিযোগকারীদের ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের ভিডিও কল দেওয়া, কল না ধরলে ফল খারাপ করানোর হুমকি, হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ প্রদান, ইচ্ছাকৃত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়া, রুমে ডেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে আপত্তিকর জিজ্ঞাসা, ক্লাসে সবার সামনে আজেবাজে ইঙ্গিত, বিবাহিত ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, তার অধীনে প্রজেক্ট করতে পছন্দের ছাত্রীদের বাধ্য করা ও ছাত্রীদের বডি শেমিংসহ নানাভাবে হেনস্তা করছেন শিক্ষক আজিজুুল ইসলাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী পাঁচ জন ছাত্রী জানিয়েছেন, ওই শিক্ষকের যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীদের অনেকে বিবাহিত হওয়ায় সামাজিক ও পারিবারিক আত্মসম্মানের কথা ভেবে এতদিন মুখ খোলেননি। যদিও এর মধ্যে দু-একজন তার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন। শেষে ভুক্তভোগীরা মিলে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ কোনও সমাধান নয়। তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান এই পাঁচ শিক্ষার্থী।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক আজিজুুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি আপাতত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আছি। এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। আপাতত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মে ২৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করে প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে সমকামিতা, যৌন হয়রানি, শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, ছাত্রলীগের মিছিলে জোর করে পাঠানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।


এই বিভাগের আরো খবর