শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে সেনা অভিযানে আটক ৩, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫

রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার ডক্টর ইংলিশ কোচিং সেন্টার থেকে বিপুর সংখ্যক অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ তিনজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার রাত ২টা থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ৪০ ইস্ট বেঙ্গল এর একটি দল এ অভিযান চালায়। আটককৃতরা হলো কাদিরগঞ্জ এলাকার শফিউল আলম লাকটু’র ছেলে ও কোচিং সেন্টারের মালিক মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্য। এছাড়া তার দুই সহযোগি পার্শ্ববতি মসজিদের খাদেম ও কোচিং সেন্টারের কর্মচারী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে ফয়সাল ও দড়ি খরবোনা এলাকার মৃত শামীম হোসেনের ছেলে রবিন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম ও ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারীতে জঙ্গি হামলা মামলার আসামি ছিলেন।


সেনাবাহিনীর একটি সুত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ছিল আটক কোচিং সেন্টারের মালিকের কাছে অবৈধ দুটি আগ্নিয়াত্র আছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার রাত দুটার দিকে আনিন্দ্যর অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও রুম তল্লাসী করা হলে বের হয়ে আসে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ দেশীয় অস্ত্র। সেনা বাহিনীর দেয়া তথ্যনুযায়ী সেখান থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, গুলি, বোমা তৈরী সরঞ্জাম, সামরিক মানের দুরবীন ও স্লাইপার স্কোপ, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৭টি বিদেশী ধারালো ডেগার, ৫টি উন্নতমানের ওয়াকিটকি, সামরিক মানের ১টি জিপিএস, ১টি টিজার গান, বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী কার্টিজ, বিপুল সংখ্যক অব্যবহৃত সীমকার্ড, ৬টি কম্পিউটার সেট, বিভিন্ন দেশী বিদেশী মদ, ৭ হাজার ৪৪৫ নগদ টাকা এবং ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ। এই নাইট্রোজেন কার্টিজ ও একটি ককটেল বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই নিষ্কৃীয় করে।

কোচিং সেন্টারটি মালিক মুনতাসিরুল আলম আনিন্দ্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই এবং সাবেক বিএনপি নেতা শফিউল আলম লাটক”র ছেলে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে এই অনিন্দ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা মামলা এবং হলি আর্টিজেন জঙ্গী হামলা মামলার আসামি। তিনি দীর্ঘদিন কারাবাস করে এবং জামিনে বের হয়ে আসে। পরবর্তিতে ডক্টর ইংলিশ নামে একটি কোচিং সেন্টার খুলে বসে। কোচিং সেন্টারের আড়ালেই এতদিন সে রাষ্ট্র বিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।


এই বিভাগের আরো খবর