পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী নার্সিং কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার কলেজটির অধ্যক্ষ মোসা. মতিয়ারা খাতুন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বন্ধের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ‘একইসাথে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে আবাসিক হল (হোস্টেল) ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘রাজশাহী নার্সিং কলেজ, রাজশাহীতে ১৩ মে ডিপ্লোমা (সিনিয়র স্টাফ নার্স) এবং বিএসসি বেসিক নার্সিং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী নার্সিং কলেজ, রাজশাহীর সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’ নোটিশে আরও বলা হয়, ‘একইসাথে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দুপুর ১২টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে সকল আবাসিক হল (হোস্টেল) ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে এমন নির্দেশনায় নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ। তারা বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হলো, আমরা আহত ও রক্তাক্ত হলাম। আবার উল্টো আমাদেরকেই শাস্তি দিচ্ছে। আমাদেরকেই লেখাপড়া বাদ দিয়ে এখন হল ত্যাগ করতে বলছে! হল ত্যাগ না করলে শাস্তিও দিবে বলছে। এ কেমন বিচার! হঠাৎ এই নির্দেশনায় দূরের ছাত্রীরা কোথায় যাবে এখন? কীভাবে বাসায় যাবে?’
এ বিষয়ে রাজশাহী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মোসা. মতিয়ারা খাতুন বলেন, ‘আগামী ১৬ তারিখ থেকে পরীক্ষা। আরও বিশৃঙ্খলা যদি হয়ে যায়। আমি দুটা ট্যাকেল দিতে পারছি না। সেজন্য সমন্বয় করে আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবকিছু স্বাভাবিক হলে শিক্ষা কার্যক্রম আবারও চালু হবে।’
এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে রাজশাহী নার্সিং কলেজের ৪ বছর মেয়াদি বেসিক বিএসসি কোর্সের শিক্ষার্থীদের ওপর কলেজ চত্বরে হামলার ঘটনা ঘটে। কলেজের দরজা ও কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ১০ জন আহত হন। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘বিএসসি স্টুডেন্ট’ শুনলেই পেটানোর ঘোষণা দেন বেসরকারি নার্সিং কলেজের ডিপ্লোমা কোর্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর থেকে বিএসসির সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে হেনস্তাও করেন তারা। ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশে ডিপ্লোমার কয়েকজন শিক্ষার্থী এমনটা করেছেন বলে পরবর্তীতে তারা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকা ও ওয়ার্ডের ভেতরেও পুলিশ এবং সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।