বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এক দিনের বিষয় নয়। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পাঁচ বছর, কখনও তারও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। তাই এবার ভুলের সুযোগ রাখতে চাই না।’
দলীয় একাধিক সূত্র মতে, বাইরে যত আলোচনা-জল্পনাই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত এখনো সীমিত কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে। এছাড়া রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খান।
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের ভাষ্য, “এ মুহূর্তে যেসব নাম আলোচনায় রয়েছে, তার কোনোটিই চূড়ান্ত নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিদিন বদলাচ্ছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। তবে, রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন, মার্জিত এবং ‘স্বজ্জন ব্যক্তি’ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ও সমাদৃত মির্জা ফখরুল। তাই এই পদের জন্য তিনি এগিয়ে রয়েছেন।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে জাতীয় স্বার্থে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করা প্রয়োজন, যিনি কেবল দলীয় আনুগত্য নয়, সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার জন্যও গ্রহণযোগ্য।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে একাধিক সাংবিধানিক ও সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন আনতে হবে। সেই বাস্তবতাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণেই মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যের নামও বিবেচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, যদি বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রয়োজন হবে। একইভাবে বিএনপির মহাসচিব রাষ্ট্রপতি হলে দলেও নেতৃত্বের পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠবে। আবার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকেই স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি করা হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার পদেও পরিবর্তন আনতে হবে। এ কারণেই সরকার ও দলের সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট না করে কীভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সেটিও আলোচনায় রয়েছে।







