রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার তালিকায় যাদের নাম থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রোফাইল এরইমধ্যে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় রাজনীতি নয়, দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানান মতামত থাকলেও শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত হন।
এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ, পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে বলছেন অনেকে।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর আগে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ কম। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
তারমতে, রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ, সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বজনস্বীকৃত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাগত ও কূটনৈতিক যোগ্যতা, বর্তমান সরকার ও দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রপতির শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা-সবকিছুই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সব বিষয় বিবেচনায় নিলে বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া কাউকে এ পদে বিবেচনা করা দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি না। তবে ক্ষমতায় বসলে অধিকাংশ মানুষেরই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে সেটির পরিণতি অধিকাংশ সময়ই খুব ভালো হয়েছে, এমনটি প্রমাণিত নয়। তাই আবেগের চেয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।