গবেষণাধীন এই নতুন ওষুধের নাম ‘সিবিএল-৫১৪’, যা ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। এটি ত্বকের ঠিক নিচে থাকা মেদ বা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট কমানোর পাশাপাশি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গভীরে জমে থাকা মেদ বা ভিসারাল ফ্যাট কমাতেও কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গবেষণার একাধিক ধাপের মধ্যে সিবিএল-০২০৪ এবং সিবিএল-০২০৫ নামের দুটি দ্বিতীয় পর্যায় বা ফেজ-২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যথাক্রমে ১০৭ এবং ১৭৩ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। এতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবকের ত্বকের নিচের চর্বি কমাতে সিবিএল-৫১৪ বেশ কার্যকর।
গবেষণার বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী বিশেষজ্ঞ মারি স্প্রেকলি বলেন, এই ফলাফল প্রাথমিক আশ্বাসদায়ক প্রমাণ দেয় যে, সিবিএল-৫১৪ পেটের ভেতরের চর্বির পরিমাণ কমাতে পারে। তবে মেদ কমানোর এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় কি না এবং এটি স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় কি না, তা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদী এবং বড় ট্রায়াল প্রয়োজন।
এছাড়া প্রাণীদের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ গোত্রীয় ওষুধ ‘টিরজেপাটাইড’ এবং ‘সিবিএল-৫১৪’ একসাথে প্রয়োগ করা ইঁদুরগুলো কেবল টিরজেপাটাইড পাওয়া ইঁদুরের তুলনায় বেশি ওজন হারিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার পরও দুটি ওষুধ পাওয়া ইঁদুরগুলোর ওজন সহজে বাড়েনি। সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ ওষুধ বন্ধ করলে হারানো ওজন দ্রুত ফিরে আসে। কিন্তু সিবিএল-৫১৪ মেদকোষকে স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করায় ওজন সহজে ফেরত আসে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটাবলিজম গবেষক জাস্টিন রচফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, স্থূলতার কার্যকর চিকিৎসা হতে হলে এটি যেন অন্যান্য অঙ্গে চর্বি জমতে না দেয় বা রক্তে শর্করা ও চর্বির নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত না ঘটায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
গবেষকরা এখন আরও বড় দলে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রায়াল চালানোর পরিকল্পনা করছেন। মূলত ত্বকের নিচে চর্বির পিণ্ড বা ‘লাইপোমা’ দূর করার জন্য সিবিএল-৫১৪ তৈরি করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে মেদকোষ দূর করার এই লক্ষ্যভিত্তিক পদ্ধতি স্থূলতা চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। টিমোথি গার্ভির মতে, ‘স্থূলতার ওষুধভিত্তিক চিকিৎসায় এটি একটি অত্যন্ত উদ্ভাবনী পদ্ধতি, যা মানুষের ওপর চালানো প্রাথমিক পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফলাফল দিয়েছে’। সূত্র: সায়েন্স এলার্ট







