সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

‘ইন্ডিয়া’র অস্তিত্বরক্ষার বৈঠকেও কাঁটা ডিএমকে, আপ, সিপিএম

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের পর এই প্রথম বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বসবে বৈঠক। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী প্রথম বৈঠকের আগে দৃশ্যত নড়বড়ে বিরোধী শিবির। পূর্ণশক্তি প্রদর্শন তো দূর, আঞ্চলিক রাজনীতিতে বেআব্রু হয়ে পড়া শরিকি-দ্বন্দ্ব আড়াল করার চেষ্টাই বেশি প্রকট হল বৈঠকের আগে।

বিরোধী জোটের অন্দরে এই শরিকি-দ্বন্দ্ব আবর্তিতই হচ্ছে কংগ্রেসকে ঘিরে। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্প্রতি ডিএমকে-র সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সোমবারের বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমকে। আম আদমি পার্টি (আপ)-র ইদানিং কংগ্রেসের সঙ্গে বিশেষ বনিবনা নেই। ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে তা-ই যোগ দিচ্ছে না তারাও। কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব প্রসঙ্গে রবিবার ফের এক বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে আপ। অরবিন্দ কেজরীবালের দলের নেত্রী প্রিয়ঙ্কা কক্করের কথায়, “অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধার সময় কংগ্রেসের একমাত্র লক্ষ্য থাকে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করা। দেশের স্বার্থের কথা ওরা ভাবে না।” কথাপ্রসঙ্গে ডিএমকে-র সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়েও কংগ্রেসকে বিঁধেছেন তিনি। কেরল ভোট নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ প্রকট হয়েছে সিপিএমেরও। তবে সিপিএম বৈঠক একেবারে এড়িয়ে যাচ্ছে না। বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে তারা। তবে তা স্রেফ নামমাত্র প্রতিনিধিত্ব বলেই ব্যাখ্যা করেছেন অনেকে।
‘ইন্ডিয়া’ বৈঠকের জন্য রবিবারই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক আগে থেকেই দিল্লিতে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ভোটে পরাজয়ের আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সম্পর্কে দৃশ্যত কিছু অবজ্ঞাই করেছেন মমতা। পরাজয়ের পরে কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বাঁধার জন্য আহ্বান জানান তিনি। আহ্বান জানান, বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও। সোমবার দিল্লির বৈঠকে মমতা-অভিষেক উভয়েরই থাকার কথা। তার আগে রবিবার কেজরীবালের সঙ্গে দেখা করতে যান তাঁরা। আপ প্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও সারেন তাঁরা।
এ অবস্থায় সোমবারের বৈঠকে কতগুলি দল যোগ দেবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। রবিবার বিকেলে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সমাজমাধ্যমে জানান, ২৩টি দল বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। তাঁর দাবি, বিরোধী জোট ঐক্যবদ্ধই রয়েছে। কয়েকটি দল নিজস্ব কারণে বৈঠকে যোগ দিতে পারছে না বলে জানান জয়রাম। তবে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা ওই দলগুলিও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং কাজকর্মের বিরুদ্ধে বলে দাবি কংগ্রেস নেতার। জয়রামের পোস্টে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও লেখেন, “একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য এবং স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই বৈঠক বসছে। ‘ইন্ডিয়া’ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।”


এই বিভাগের আরো খবর