নিশা চট্টোপাধ্যায় নামে এক মহিলাকে কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। রাতারাতি সেই নিশার নাম প্রত্যাহারও করে নিলেন হুমায়ুন। কারণ?
সৌদির ‘ক্কারী’ (ধর্মগুরু) দিয়ে শুরু। হায়দরাবাদি বাউন্সার হয়ে এ বার প্রার্থী নিয়েও হোঁচট খেলেন হুমায়ুন কবীর। নতুন দল তৈরির ১২ ঘণ্টার মধ্যে নয় প্রার্থীর মধ্যে একজনের নাম প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। কারণ? সমাজমাধ্যমে নাকি ‘বড্ড খোলামেলা’ বালিগঞ্জ কেন্দ্রের ঘোষিত প্রার্থী নিশা চট্টোপাধ্যায়। তাই এক রাত কাটতেই কলকাতাবাসী ওই মহিলা জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়ে দিলেন প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন।

প্রসঙ্গত, বালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। ওই বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে আসনটি খালি হওয়ার পরে উপনির্বাচনে তৃণমূল বাবুল সুপ্রিয়কে সেখানে প্রার্থী করেছিল। তবে সুব্রতের চেয়ে বাবুলের জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে গিয়েছিল। বাবুলের বিরুদ্ধে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছিলেন সায়রা শাহ হালিম। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কেয়া ঘোষ। উপনির্বাচনে সায়রা দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। মনে করা হয়, সংখ্যালঘু ভোট পাওয়ার ফলেই তিনি দ্বিতীয় হয়ে লড়াই শেষ করতে পেরেছিলেন। ফলে সেই কেন্দ্রের জন্য হুমায়ুন যখন চট্টোপাধ্যায় পদবিযুক্ত নিশার নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন, তখনই বিষয়টি নিয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তৃণমূলের অনেকে ঠারেঠোরে বলতে শুরু করেছিলেন যে, নিশাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, হুমায়ুন ‘ভোটের জমি’ ঠিকঠাক বুঝতে পারেন না। তবে ১২ ঘন্টার মধ্যেই হুমায়ুন সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেছেন। বলেওছেন, বালিগঞ্জে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেবেন। এখন দেখার, নিশার জায়গায় কোন সংখ্যালঘু মুখ নিয়ে হুমায়ুন বালিগঞ্জে ভোট লড়তে নামেন।