গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিচার ভবনে সুজয়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। সেই চার্জশিটে সিবিআই বিস্তারিত ভাবে এক ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের ওই অডিয়ো ক্লিপের কথোপকথনের বৃত্তান্ত জানিয়েছে। সিবিআইয়ের দাবি, অডিয়োয় জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শোনা গিয়েছে। কিন্তু কে সেই অভিষেক, কী তাঁর পরিচয়, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই ২৮ পাতার চার্জশিটে (তার প্রতিলিপি আনন্দবাজার অনলাইনের হেফাজতে রয়েছে)। রয়েছে শুধু নামটুকুই। যদিও বাকি অনেকের ক্ষেত্রে তাঁদের নামের সঙ্গে চার্জশিটে নির্দিষ্ট পরিচয়ের উল্লেখ করেছে সিবিআই। যেমন পার্থের ক্ষেত্রে তাঁর ‘প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী’ পরিচয় লিখেছে সিবিআই। সুজয়কৃষ্ণের পরিচয় দিয়েছে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ‘চিফ অপারেটিং অফিসার’ হিসাবে। চার্জশিট অনুযায়ী, শান্তনু এবং সুজয়কৃষ্ণ একই দলের (অর্থাৎ তৃণমূলের) সদস্য ছিলেন। তার পরে লেখা হয়েছে, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস (যুবা)-এর সদস্য ছিলেন। সুজয়কৃষ্ণের ‘সাব-এজেন্ট’ হয়ে কাজ করতেন শান্তনু। তবে অভিষেকের ক্ষেত্রে সিবিআই কোনও পরিচয় চার্জশিটে দেয়নি। তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, না ব্যবসায়ী, না কি শিক্ষা বা অন্য কোনও সরকারি দফতরের সঙ্গে যুক্ত, না কি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত, সে বিষয়ে সিবিআই চার্জশিটে একটি শব্দও ব্যয় করেনি। শুধু নামটিই লিখেছে তারা।
সিবিআই চার্জশিটের ১২ নম্বর পাতায় লেখা হয়েছে, ওই অডিয়ো ক্লিপের কথোপকথনে সুজয়কৃষ্ণকে বলতে শোনা গিয়ছে, ইতিপূর্বে নিশ্চিত হয়ে যাওয়া বেআইনি নিয়োগের জন্য ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন অভিষেক। সুজয়কৃষ্ণ তখন বলেছিলেন, তিনি ওই টাকা দিতে অপারগ। কারণ, আগেই প্রার্থীপিছু সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়ে গিয়েছে। সিবিআই চার্জশিটে লিখেছে, অডিয়ো ক্লিপে সুজয়কৃষ্ণকে বলতে শোনা গিয়েছে, তাঁর কথা শুনে ওই চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন অভিষেক। সুজয়কৃষ্ণ বলেছেন, অন্যথায় ওই প্রার্থীদের গ্রেফতার করিয়ে দেওয়া হবে। অথবা দূরে কোথাও নিয়োগ দেওয়া হবে।