জলসাগর রেস্তোরাঁ থেকে একজন বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন সম্পর্কিত অপরাধে জড়িত সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ঠিক পাশে থাকা টেস্ট অব রাজ নামের রেস্তোরাঁ থেকে আরও চার বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও তারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। অন্য দুই বাংলাদেশিকে জামিনের শর্ত ভঙ্গে অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সৎ নিয়োগদাতারা। কারণ, এর ফলে স্থানীয় মজুরি কমে যায়। এর মধ্য দিয়ে সংগঠিত অভিবাসন অপরাধকেও উসকে দেওয়া হয়। এই সরকার তা সহ্য করবে না।’’
তিনি আরও বলেন, লেবার পার্টির সরকার ‘‘ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বেড়েছে। অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।’’
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪০ হাজার ৬৫২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের মোট আগমনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এ কারণে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টির সরকার প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। কারণ, দিন দিন অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রতি জনসমর্থন বেড়েই চলেছে। আগামী মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে পার্টি।
এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের আশ্রয়নীতিকে কঠোর করার লক্ষ্যে গত নভেম্বরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে সংস্কার প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতি কঠোর করেছে যুক্তরাজ্য।
শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বলেছে, এই ইস্যুতে ‘সহযোগিতা দ্রুত’ উন্নত না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।