সৌদির বিমান হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ইরা, সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন শক্তি জড়িয়ে রয়েছে।
ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত; যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও রয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরোধিতাই এই সরকারকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে।
আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এএফপিকে বলেছে, সৌদি আরব ওই এলাকায় দুটি হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সৌদি আরবঘনিষ্ঠ এক উপজাতীয় নেতার সংঘর্ষের পরই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হাদরামাউতের এক সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, সংঘর্ষের পর ওই উপজাতীয় নেতা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
এক দিন আগে ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশ থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল সৌদি আরব। চলতি মাসের শুরুর দিকে এই দুই প্রদেশের দখল নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
এদিকে, ইয়েমেনে নিরাপত্তা জোরদারে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে শুক্রবার স্বাগত জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিলেও দুই উপসাগরীয় মিত্র দেশ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে।
রিয়াদ বলেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি-আমিরাতি সামরিক প্রতিনিধিদল অ্যাডেন সফর করে এবং এসটিসিকে সাম্প্রতিক দখল করা দুই প্রদেশ ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। সৌদি আরবের উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ এখনও চলমান রয়েছে।
তবে সে সময় এসটিসির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে বলেছিল, প্রতিনিধিদল তাদের নতুন দখল করা এলাকা থেকে সরে যেতে বললেও গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, এসটিসির অগ্রযাত্রা ‘বৃহত্তর উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আরও বিভাজনের’ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রায় আবারও যুদ্ধ শুরু হলে তা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেন বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির উত্তরের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। দখলে নেওয়া এসব এলাকার মধ্যে দেশটির প্রধান জনবসতি অঞ্চলও রয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটসমর্থিত সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এই সংঘাতে কয়েক লাখ ইয়েমেনি নিহত হয়েছেন এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তবে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর থেকে সংঘর্ষের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সূত্র: এএফপি।